রাউজানে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর ঘরের সামনে গুলি ছুড়ল যুবদল নেতা

রাউজানে দাবি করা ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ডিশ ব্যবসায়ীর ঘরের সামনে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি ও খুনের হুমকির অভিযোগ উঠেছে পৌর যুবদল যুগ্ম আহবায়ক মো. ফয়েজের বিরুদ্ধে। যদিও এ অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

শনিবার (২৪ মে) রাতে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গহিরা গ্রামের আবদুস সোবাহান দারোগা বাড়ির ডিশ ব্যবসায়ী আবদুল হালিমের ঘরের সামনে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ঘটনার পর যুবদল নেতা মো. ফয়েজকে প্রধান আসামি করে রাশেদ, জসিম, রাশেদ (২) ও মো. মহিউদ্দিনের নাম উল্লেখসহ থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী ডিশ ব্যবসায়ীর স্ত্রী সুমি আকতার।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন যুবদল নেতা ফয়েজ। চাঁদা না দিলে ডিশ ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে খুন করবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকে একাধিকবার বসতঘরের সামনে গিয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে আবারও গুলি ছুড়ে।

আরও পড়ুন : চাঁদার দাবিতে দলবল নিয়ে হামলা—পুলিশের জালে যুবদল নেতা সোহাগ

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবদুল হালিম বলেন, আমি ডিশ ব্যবসা করে আসছি গত ১৮ বছর ধরে। আমি বিএনপিকে সমর্থন করায় বিগত সরকার আমলেও আমার বিরুদ্ধে কয়েকটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এলাকায় ব্যবসা করতে হলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে বলেছিল ফয়েজ। আমার কাছ থেকে এর আগে দুই-তিন ধাপে ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছিল। পরে দাবি করা চাঁদা দিতে না পারায় এখন আমার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। একইসঙ্গে আমাকে এবং আমার পবিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না।

স্থানীয় বাসিন্দা রবি আকতার বলেন, এখানে এসে গোলাগুলি করে চলে যায়। এছাড়া আমরা রাস্তায় বের হলে ফয়েজসহ বেশ কয়েকজন আমাদের আওয়ামী লীগের ট্যাগ দিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফয়েজ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আবদুল হালিম আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর আলমগীর আলীর সহযোগী সন্ত্রাসী ও একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগ হওয়ায় তাঁকে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার চাপ দিচ্ছি আমরা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, গোলাগুলির বিষয়টি আমাদের কেউ জানায়নি। তবে তারা খুব খারাপ লোক। চাঁদার জন্য গোলাগুলি করলেও করতে পারে। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ওসি আরও বলেন, চাঁদাবাজির এজাহার পেয়েছি। সেটির তদন্ত চলছে। তাদের থানায় আসার জন্য বলা হয়েছে।

এসএ/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm