বেসরকারি টিভি চ্যানেল ওয়ান-এ প্রচারিত সংবাদ প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির রিপোর্টার এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি এবং রিপোর্ট প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।
‘৪০ কোটির বন নিজের নামে, সরকারি কর্মকর্তারাই নাড়েন কলকাঠি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে জমির মালিক তাসকিনা কাকলি চৌধুরীর পক্ষে এই নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ নাঈম।
সোমবার (১১ মে) এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয় বলে জানান অ্যাড. মোহাম্মদ নাঈম। প্রতিবেদনে তাসকিনা কাকলি চৌধুরীর মালিকানাধীন সম্পত্তিকে বন বিভাগের সম্পত্তি বলে উল্লেখ করায় এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তথ্যসূত্র বলছে, গত ২ মে প্রতিবেদনটি সম্প্রচার করে চ্যানেল ওয়ান। এরপর সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রতিবেদন সম্প্রচার করা হয়েছে। সেখানে তাসকিনা কাকলি চৌধুরীর মানহানি করা হয়েছে।
বন আইনের ৪ ধারার প্রকাশিত নোটিফিকেশনে সংশ্লিষ্ট সিএস-৮৪৩ নং দাগসহ মোট ২১টি দাগের বিপরীতে ১৩৩ দশমিক ৯৩ একর ভূমির উল্লেখ রয়েছে। তবে এই ২১টি দাগের মোট জমির পরিমাণ ১৮৪ দশমিক ৬৩ একর। অর্থাৎ ২১টি দাগ থেকে ৫০ দশমিক ৭০ একর জমি ৪ ধারার নোটিফিকেশন বহির্ভূত। সিএস-৮৪৩ দাগের মোট জমির পরিমাণ ২০ দশমিক ৩২ একর, এর মধ্যে ১৬ দশমিক ৮৩ একর জমি নোটিফিকেশন গেজেটের অন্তর্ভুক্ত। অবশিষ্ট ৩ দশমিক ৪৯ একর জমি নোটিফিকেশন বহির্ভূত ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। যার মধ্যে জাহেদুর রব চৌধুরীর নামে জমি রয়েছে। যা পরে ক্রয়সূত্রে তাসকিনা কাকলি চৌধুরীর মালিকানাধীন জমি হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনটিতে সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং পেশাগত সততা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত। এমন সব বক্তব্য, ইঙ্গিত ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে যার কোনো আইনগত ভিত্তি, প্রামাণিক দলিল বা সত্যতা নেই। এটি সম্পূর্ণরূপে একতরফা, বিদ্বেষমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পূর্বপরিকল্পিত প্রতিবেদন। নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনটি সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। অন্যথায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
আইনজীবী মোহাম্মদ নাঈম বলেন, প্রতিবেদনটিতে তথ্য গোপন করে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তাসকিনা কাকলি চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে। বন বিভাগের যে কথা বলা হয়েছে, তা আলাদা এবং আমার মক্কেলের জমি আলাদা। খতিয়ানেও তাই। প্রতিবেদনে কেন মিথ্যা তথ্য দেওয়া হলো, তার জন্য সাংবাদিক জাহিদুল ইসলামকে নোটিশ দিয়েছি।
আলোকিত চট্টগ্রাম

