লাঠিতে পেরেক লাগিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর, মাদ্রাসা সুপার খুন—রক্তাক্ত ৩

লোহাগাড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় মাওলানা আবুল কাশেম নামে এক মাদ্রাসা সুপার ‍খুন হয়েছেন। রক্তাক্ত হয়েছে আরো তিনজন।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের (৬নং ওয়ার্ড) জান মোহাম্মদপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাওলানা আবুল কাশেম (৭০) লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের (৬নং ওয়ার্ড) জান মোহাম্মদপাড়ার মৃত আবদুস সোবহানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরম্বা জামেউল উলুম মাদ্রাসার সুপার হিসেবে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।

আহতরা হলেন— কবির আহমদের ছেলে হারুনুর রশিদ (৪০), মৃত হাফেজ আহমদের ছেলে শাহ আলম (৩৭) এবং শামশুল আলমের মেয়ে ছখিনা খাতুন (৫৫)।

জানা যায়, জায়গা নিয়ে আবুল কাশেম ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে কাশেমের প্রতিপক্ষরা জোর করে জায়গা দখল ও ঘর নির্মাণ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের ছেলে ফোরকান জানান, আমাদের জয়গার ওপর বাড়ি নির্মাণ করার জন্য ঠাকুরদিঘী নয়াপাড়ার রাজমিস্ত্রী ইয়াকুবের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করে আমাদের প্রতিপক্ষরা। আজ সকালে প্রতিপক্ষরা আমাদের জায়গায় বাড়ি করতে গেলে আমার ফুফু বাধা দেয়। এ সময় ওরা আমার ফুফুকে বেধড়ক মারধর করে। তখন আমার বাবা মাদ্রাসায় ছিলেন। আমার ফুফুকে মারধরের কথা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে এলে কবির আহমদ প্রকাশ কবির মেম্বারের ছেলে হারুনুর রশিদ, শামশুল ইসলাম, নুরুল হকের ছেলে আদনসহ বেশ কয়েকজন হামলা চালায়। তারা পেরেক যুক্ত লাঠি নিয়ে বাবার শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে এনে আবারও মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এই ঘটনার ইন্ধনদাতা স্থানীয় প্রভাবশালী জামাল কোং বলে অভিযোগ করেন ফোরকান।

যোগাযোগ করা হলে চরম্বা ইউনিয়নের  ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছৈয়দ হোছাইনএ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক এজাজুল ইসলাম শিহাব জানান, আজ সকালে আবুল কাশেম, হারুনুর রশিদ ,শাহ আলম এবং ছখিনা খাতুন নামের চারজনকে গুরুতর অবস্থায় চরম্বা এলাকার লোকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে দেখি আবুল কাশেম নামের ব্যক্তিটি হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন। হারুনুর রশিদ ও শাহ আলমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ছখিনা খাতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২ জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm