পটিয়ায় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে হাওয়া লেগেছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত তিন একর ভূমির সংশোধিত প্রতিবেদন উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই শেষে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
সরকারের ‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় পটিয়ায় একটি আধুনিক সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ভূমি নির্বাচন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত ১৭ মে জেলা প্রশাসকের কাছে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ৩ জুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সেই প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত ভূমি সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় এখন প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাজার হাজার শিক্ষার্থী আধুনিক কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পাবে।
বর্তমান বিশ্বে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, নির্মাণ, অটোমেশন ও আধুনিক কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। অথচ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনো সরকারি পর্যায়ে আধুনিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঘাটতি রয়েছে। প্রস্তাবিত সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলে এসএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, মেকানিক্যালসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে স্থানীয় শিল্পখাত ও বিদেশমুখী কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরিতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পটিয়ার শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য একটি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অত্যন্ত প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ভূমি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় আমি আশাবাদী, খুব শিগগিরই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পটিয়ার শিক্ষার্থীরা যেন নিজ এলাকায় থেকেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত ভূমির বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত পোষণ করে তা প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যায়।
পটিয়ার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব অনুভূত হচ্ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু পটিয়া নয়, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বোয়ালখালীর শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে। কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে এই প্রতিষ্ঠান সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
আলোকিত চট্টগ্রাম
