পটিয়ার আলোচিত পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে প্রথমে এলাকা ত্যাগ, এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন এবং সবশেষ টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা— সবকিছু যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। টানা ৯ দিনের অভিযান, প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই খুনের মামলার প্রধান আসামি আবদুর রহমান।
এদিকে একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা বোরকা পরা নারীকেও। এই দুই গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে খুনের নেপথ্যের অনেক অজানা তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।
গত ৯ জুন রাত ৯টার দিকে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা এলাকায় সংঘটিত হয় এই খুন। দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মিলন শীলের ছেলে পঙ্কজ শীল (৩২)। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিলক চক্রবর্তী (৩০)। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় আবদুর রহমান। প্রথমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়তে থাকলে সে কৌশলে অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা, ঢাকা ও দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় ঘোরাফেরা করার পর সে কক্সবাজারের টেকনাফে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানে মানবপাচার চক্রের সহায়তায় সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা ঘটনার পর থেকেই আবদুর রহমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। সে মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করে এবং বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিল। শেষ পর্যন্ত টেকনাফে তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ পূর্ব এলাহাবাদ এলাকা থেকে ফাতেমা বেগম (১৯) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ওই নারী ঘটনাস্থলের আশপাশে ছিলেন এবং খুনের আগে-পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সম্পর্কে জানতেন। তিনি প্রত্যক্ষভাবে কী ভূমিকা পালন করেছেন, নাকি ঘটনার কোনো পর্যায়ে সহযোগিতা করেছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারের পর খুনের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের পেছনে আরও কেউ জড়িত ছিল কি-না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এদিকে নিহত পঙ্কজের মা ঝিনু ছেলে হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আমার ছেলেকে যারা খুন করেছে, তাদের কাউকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়। আমি বিচার চাই।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, এটি আকস্মিক কোনো ঘটনা না। পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে পঙ্কজকে খুন করা হয়েছে। তারা ঘটনার পেছনের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
যোগাযোগ করা হলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পঙ্কজ শীল হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
কেএ/আলোকিত চট্টগ্রাম
