কক্সবাজারে রামুর ঈদগড়, চকরিয়ার খুটাখালী ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীর পাহাড়ি এলাকায় কয়েকদিন ঘোরাঘুরি করা অসুস্থ বন্য মা হাতিটি মারা গেছে। হাতিটির বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের লম্বাখালী এলাকায় হাতিটির মৃত্যু হয় বলে জানান বন বিভাগের ঈদগাঁও রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন।
স্থানীয়রা জানার, মা হাতিটির মৃত্যুর পর একটি বাচ্চা হাতিসহ ৮ থেকে ১০টি বন্য হাতির দল মৃতদেহ ঘিরে অবস্থান নেয়। এ সময় হাতির ছোট বাচ্চাটির করুণ ডাক এবং শোকময় আচরণে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে ঈদগড়, খুটাখালী ও বাইশারীর পাহাড়ি এলাকায় অসুস্থ ও শারীরিকভাবে দুর্বল একটি বন্য হাতিকে লোকালয়ের আশপাশে বিক্ষিপ্তভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয়রা বন বিভাগকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের একটি দল গত ৪ দিন ধরে পাহাড়ি বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও হাতিটির সন্ধান পায়নি।
স্থানীয় কৃষক নুর মোহাম্মদ জানান, গত দুদিন ধরে দুর্বল ও অসুস্থ অবস্থায় হাতিটি লোকালয়ে অবস্থান করছিল। সঙ্গে ছিল তার ছোট একটি শাবক। শুক্রবার রাত থেকেই মা হাতি ও শাবকটি তার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। পরে বিষয়টি বন বিভাগকে জানানো হয়।
তিনি বলেন, রোববার সকালে হাতিটিকে একই স্থানে মৃত পড়ে থাকতে দেখা যায়। শাবকটিকে মায়ের মৃতদেহ ঘিরে অবস্থান করছিল। বাচ্চা হাতিটি কিছুতে মৃত মায়ের পাশ ছেড়ে যাচ্ছিল না। লোকজন কাছে গেলে আতঙ্কিত হয়ে শাবকটি করুণ সূরে ডাকতে থাকে। এ সময় ৮/১০ টি বন্য হাতির একটি দলকে মৃত হাতির পাশের পাহাড়ে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন জানান, রোববার সকালে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল যায়। ভেটেরিনারি সার্জনের সহায়তায় মৃত হাতির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে হাতিটিকে ঘটনাস্থলেই মাটিচাপা দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে হাতিটির অসুস্থতার কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এমকেডি/আলোকিত চট্টগ্রাম


