আনোয়ারায় ধর্ষণের পর দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক কিশোরী। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা। কিন্তু এখন পর্যন্ত চার ধর্ষকের সবাই ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই ৪ ধর্ষক কোথায়— জানে না কেউ।
ধর্ষণ মামলার ৪ আসামি হলেন— উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ময়না গাজীর বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে আবু তাহের (৪২), পূর্ব গহিরা নতুন বাড়ির আব্দুর নূরের ছেলে রবিউল হোসেন প্রকাশ চুমকিয়া (২৪), পূর্ব গহিরা হাড়িয়াপাড়া এলাকার আজিজুল হকের ছেলে মো. ফারুক (২৩) এবং একই এলাকার মো. হোসাইনের ছেলে আনোয়ার হোসাইন (২২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ওই কিশোরী খালার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। আসামি আবু তাহেরের মুদি দোকানের সামনে পৌঁছালে তিনি জোরপূর্বক তাকে দোকানের ভেতরে টেনে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
ভোর ৪টার দিকে বিষয়টি জানতে পারেন স্থানীয় তিন যুবক রবিউল হোসেন ওরফে চুমকিয়া, মো. ফারুক ও আনোয়ার হোসাইন। তখন আবু তাহের ওই কিশোরীকে ওই তিনজনের হাতে তুলে দেন। এরপর তারা কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে পাশের একটি বিলে নিয়ে যান। সেখানে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ওই তিনজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরী পরদিন সকালে বাড়ি গিয়ে তার মাকে ঘটনা জানান। এরপর কিশোরীর মা বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে রয়েছেন। সেখানে তার ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয় এবং মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং করা হচ্ছে।
ওসিসি সেন্টারে ওই কিশোরীকে দেখতে যান চট্টগ্রাম জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী। যোগাযোগ করা হলে তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ঘটনার বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ায় তার (কিশোরী) নমুনাগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তাকে মানসিক বিষয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে আমাদের আনোয়ারার কর্মকর্তারা যোগাযোগ রাখছেন। ঘটনার এতদিন পর আসামি গ্রেপ্তার না হওয়াকে তিনি ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় কিশোরীর পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে ডিবি কাজ করছে। তারা এখন আত্মগোপনে চলে গেছে। তবে খুব অল্প সময়েই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনোয়ারা সার্কেলের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
আলোকিত চট্টগ্রাম


