আনোয়ারায় তরুণী হালিমা আক্তার মুন্নির (২১) ঝুলন্ত মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়া স্বামী মো. মিজানুর রহমান (৩২) ধরা পড়েছেন।
সোমবার (১১ মে) রাত পৌনে ৯টায় নগরের চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. মিজানুর রহমান উপজেলার আব্দুল নবী মেম্বারের ছেলে।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর হালিমা আক্তার মুন্নির সাথে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামের হাফেজ মো. মিজানুর রহমানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মিশকাতুল জান্নাত নামে দেড় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকও হয়।
এদিকে মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়সময় তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মুন্নি ও তার স্বামী কিছুদিন ভাড়া বাসায় ছিলেন। সম্প্রতি শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে হালিমাকে শ্বশুরবাড়ি ফিরিয়ে নেওয়া হয়। গত ১০ মে ভোরে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে বলে তার পরিবারকে ফোনে জানান মিজানুর রহমান। খবর পেয়ে মুন্নির বাবার বাড়ির লোকজন ছুটে আসেন। তারা সেখানে গিয়ে বেডরুমের টিনের চালের বিমের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মুন্নিকে দেখতে পান। এসময় তারা মুন্নির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও দেখেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
তাদের অভিযোগ, মুন্নিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় মুন্নির বাবা আনোয়ারা থানায় মামলা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে থেকে মুন্নির স্বামী ও মামলার ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমানকে আজ (১২ মে) আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হবে।
কেএস/আলোকিত চট্টগ্রাম
