আগামী ৮ অক্টোবর থেকে মহাপঞ্চমীর মধ্যদিয়ে শুরু হবে সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১০ অক্টোবর সপ্তমী, ১১ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১২ অক্টোবর মহানবমী এবং ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই উৎসব।
এদিকে পূজা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে পূজা উদযাপনে থানা কমিটি ও আঞ্চলিক পূজা কমিটিসহ সবাইকে অনুরোধ করেছেন মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল।
১৫ নির্দেশনা—
১) পূজা প্রস্তুতিকালীন প্রত্যেক থানা কমিটি স্ব-স্ব আঞ্চলিক কমিটিকে নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ সকলের সাথে সমন্বয় সভা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হবে।
২) পূজা আয়োজনের পূর্বে থানা কমিটিসমূহ আঞ্চলিক কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩) প্রতিটি পূজা কমিটিকে নিজস্ব সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে পালাবদল করে দিন-রাত পাহাড়া দিতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকের লিস্ট একটি ব্যানারে মন্দিরের বাইরে টাঙ্গানো থাকবে।
৪) প্রতিটি মণ্ডপের চারদিকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ‘সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত’ ব্যানার প্রতিটি মণ্ডপে লাগানো থাকতে হবে।
৫) প্রতিমা তৈরির কারখানা থেকে মণ্ডপে বহনকারী গাড়িতে সাউন্ড, মাইক, উচ্চস্বরে নাচ গান করা ও আতশবাজি ফোটানো যাবে না এবং প্রতিমা সাত্ত্বিকভাবে স্থাপনের অনুরোধ রইল।
৬) প্রতিমা স্থাপনের পর থানা পূজা কমিটি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। পূজা চলাকালীন সময় পর্যন্ত প্রয়োজনে ‘৯৯৯’ নাম্বারে যোগাযোগ করবেন।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে এবার ২৯৩ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, ৪ দিনের ছুটিসহ ১৫ দাবি
৭) পূজামণ্ডপে ডিজে (DJ) ব্যবহার, বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ গানসহ উচ্চস্বরে সকল প্রকার সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো। মণ্ডপে শুধুমাত্র ঢাক-ঢোল ও ভক্তিমূলক ধর্মীয় গান বাজবে। সম্ভব হলে আরতি, গীতাপাঠ প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারেন।
৮) কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এরূপ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিবছরের ন্যায় নামাজ ও আজানের সময় মাইক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৯) পূজামণ্ডপে মাদক সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কেউ মাদক সেবন করে মণ্ডপে প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দিতে হবে এবং তাকে বুঝিয়ে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর ব্যতয় হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করতে হবে।
১০) পূজামণ্ডপে কোনোপ্রকার লাগেজ, ব্যাগ, দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষেধ।
১১) পূজা প্রাঙ্গণে আরতি, অনুষ্ঠানমালা রাত ১১টার মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। প্রয়োজনবোধে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনার্থীদের প্রতিমা দর্শন শেষ করে গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করবেন।
১২) গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেলে থানা কমিটি, মহানগর পূজা কমিটিসহ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করবেন। কেউ কোনোকিছু সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা থেকে বিরত থাকবেন।
আরও পড়ুন : নগরে ২৭৬ পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব
১৩) পূজামণ্ডপের আশেপাশে কোনো অস্থায়ী দোকান, মেলার আয়োজন সম্পূর্ণ নিষেধ করা হলো।
১৪ ) দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের কর্তা-ব্যাক্তি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা পূজামণ্ডপে এসে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।
১৫) ১৩ অক্টোবর যথানিয়মে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে নিরঞ্জন সম্পন্ন করতে হবে। নিরঞ্জনের জন্য প্রতিমা বহনকারী গাড়িতে কোনোরকম সাউন্ড, মাইক বহন করা এবং কোনোপ্রকার আতশবাজি ফোটানো ও রং/আবির ব্যবহার করা যাবে না।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


