দলীয় কোন্দলের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি একেএম ইকবাল আজাদ হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে এ মামলায় খালাস পেয়েছেন ১৩ জন।
বুধবার (৩ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক হালিম উল্লাহ চৌধুরী এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সরাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজ আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইসমত আলী এবং মোকারম আলী সোহেল।
আরও পড়ুন : চার্জশিটে বেরিয়ে এলো আসল খুনি, ৪ জনের ফাঁসি
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার ও ইদ্রিস আলী, হাফেজুল আসাদ সিজার, মো. বাবু, হারিছ, বকুল, লিমন, আবদুল্লাহ, শরীফ ও মিজান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পিপি অশোক কুমার দাশ বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা একেএম ইকবাল আজাদকে নির্মমভাবে খুনের ১২ বছর পর চার আসমিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদলত। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির দঁড়িতে ঝুলিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
এদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া ১০ আসামির প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
অন্যদিকে মারা যাওয়ায় অব্যাহতি পেয়েছেন দুজন। এছাড়া ১৩ জন খালাস পেয়েছেন বলে জানান পিপি অশোক।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করার সময় বাধা দেন ইকবাল আজাদ। এসব কারণে ষড়যন্ত্র করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আজাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। ইকবাল আজাদের স্ত্রী উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদ একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৩১২ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সরাইলে দলীয় কোন্দলের জেরে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি একেএম ইকবাল আজাদ।
পরদিন তার ভাই একেএম জাহাঙ্গীর আজাদ বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা করেন। একই বছরের ১৭ ডিসেম্বর মোট ২৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
আরএস/আরবি


