যে বইটি প্রজন্মের প্রেরণার উৎস

জিয়াউর রহমান : এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার

‘জিয়াউর রহমান : এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী। এ সময় তিনি বলেন, বইটি ইতিহাসের একটি দলিল এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস।

এ উপলক্ষে সোমবার (১৮ মে) বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিভা প্রকাশের প্রকাশক কবি মঈন মুরসালিন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি নেছার উদ্দিন সফী ও নাছির আহমেদ মোল্লা, সহসাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রনি মৃধা, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা শিকদার, সহসভাপতি মনির হোসেন মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক,  যুগ্ম সম্পাদক কাজী মহিউদ্দিন মহি ও হাসান আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম পলাশ এবং সবুজবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. বিল্লাল হোসেন।

মোহাম্মদ মাসুদ রচিত ‘জিয়াউর রহমান : এক দূরদর্শী নেতা ও দেশ গঠনের রূপকার’ বইটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর একটি বিস্তৃত ও তথ্যবহুল আলোচনা। এটি কেবল একটি সাধারণ জীবনীগ্রন্থ নয়, বরং একজন মহান নেতার বহুমাত্রিক অবদানকে তুলে ধরার গভীর প্রয়াস। লেখক বইটিতে ১২টি ভিন্ন প্রবন্ধ সংকলন করেছেন, যেখানে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে তার বাস্তবধর্মী চিন্তাভাবনাগুলো সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

লেখক তাঁর পর্যালোচনায় জিয়াউর রহমানের জীবনকে কেবল একজন সামরিক নেতা হিসেবে নয়, বরং একজন রাষ্ট্রনায়ক, রাজনীতিবিদ এবং সমাজসংস্কারক হিসেবে তুলে ধরেছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং জেড ফোর্স গঠনের মতো ঐতিহাসিক দিকগুলো বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা এনেছিলেন, সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান এই বইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘সবুজ বিপ্লবের’ স্থপতি হিসেবে তার খাল খনন কর্মসূচির কথা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, যা বাংলাদেশের কৃষি ও অর্থনীতিতে এক মহাবিপ্লব ঘটিয়েছিল বলে লেখক দাবি করেন। এটি প্রমাণ করে, জিয়াউর রহমান কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়েও কতটা দূরদর্শী ছিলেন।

বইটিতে জিয়াউর রহমানের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শিশুদের প্রতিভা বিকাশে যে সহায়তা করেছিলেন, তা তার উদার ও সংবেদনশীল ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। পাশাপাশি, ইসলামী শিক্ষা ও জীবনবোধের প্রসারে তার ভূমিকাও আলোচিত হয়েছে।

লেখক এই বইটিকে কেবল ইতিহাসের একটি দলিল হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন। তাঁর এই প্রয়াস জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেম সম্পর্কে পাঠককে গভীরভাবে জানতে সাহায্য করবে এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা যোগাবে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm