টাকার অভাবে ফাঁসিতে ঝুললেন একাত্তরের বীর ‘আবু সাইদ সরদার’

রণাঙ্গনের এক বীর। একাত্তরের কঠিন সময়ে আশ্রয় দিয়েছিলেন নৌ কমান্ডোসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে। একাত্তরের সেই সাহসী সৈনিক, চব্বিশে এসে করলেন অসহায় আত্মসমর্পণ।

একাত্তরের উত্তাল সময়ে যিনি লড়েছেন বুক চিতিয়ে, সেই সাহসী মানুষটি এভাবে হার মানবেন তা কারো কল্পনায়ও ছিল না! মানতে কষ্ট হলেও এমনটিই ঘটেছে মাস্টারদা সূর্য সেনের চট্টগ্রামে।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার এক বাসা থেকে পুলিশ উদ্ধার করলো একটি লাশ। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল লাশটি। যার লাশ উদ্ধার হলো, তিনি আবু সাইদ সরদার; উত্তাল একাত্তরের সাহসী সৈনিক।

একাত্তরের বীর চব্বিশে এসে কেন এমন অসহায় আত্মসর্পণ? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো করুণ কাহিনী।

ক্যানসারে ভুগছিলেন আবু সাইদ সরদার। অর্ত সংকটে ঠিকভাবে চালাতে পারছিলেন না চিকিৎসা। একদিকে ভয়ঙ্কর ক্যানসার, অন্যদিকে টাকার অভাব; এ দুইয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন আবু সাইদ সরদারের।

অবশেষে পরাজয় মেনে নেওয়ার কঠিন সিদ্ধান্তটাই নিয়ে নিলেন আবু সাইদ সরদার। অর্থের অভাবে একাত্তরের এক বীরের এ আত্মহননে বাকরুদ্ধ চট্টগ্রাম, বাকরুদ্ধ বাংলাদেশ।

আবু সাইদ সরদারের স্বজন সওগাতুল আনোয়ার খান। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন আবু সাইদ। এতে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছিল তাঁর। এ কারণেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। মৃত্যুর সময় তিনি চিরকুটে লিখে গেছেন মৃত্যুর কারণ।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৩ ডিসেম্বর একবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন বলে চিরকুটে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বাসায় লোকজন থাকায় তিনি সেবার আত্মহত্যা করতে পারেননি।

পুলিশ আরও জানায়, আজ দুপুরের পর পরিবারের লোকজন বাসার বাইরে ছিল। ছোট এক নাতি ছিল আবু সাইদের সঙ্গে। সেই নাতিকে চকলেট কিনতে বাইরে পাঠিয়ে বেডরুমের ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেন ৭৪ বছরের আবু সাইদ সরদার।

যোগাযোগ করা হলে নৌ কমান্ডো আনোয়ার মিয়া জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় আগ্রাবাদের বেপারিপাড়া, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন বাড়িতে লুকিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন এই মুক্তিযোদ্ধা। তাছাড়া অপারেশন জ্যাকপটে লিমপেট মাইন বহন করাসহ জীবন বাজি রেখে অনেক কাজ করেছিলেন আবু সাইদ সরদার।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm