চান্দগাঁওয়ে হত্যার হুমকিতে বাদীর পরিবার, চাঁদা না পেয়ে হামলার অভিযোগ

চান্দগাঁও থানার বাদশা মিয়া সড়কের মাইজপাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ মো. মোরশেদ ও মো. নিজাম উদ্দিন দুই ভাই একগণ্ডা জমি কেনেন। শুরুতে সব ঠিক থাকলেও সমস্যা দেখা দেয় জায়গার দখল নিতে গেলে।

চাচা ও চাচাত ভাইয়েরা মিথ্যা অভিযোগে দাবি করে বসেন ৫ লাখ টাকা। টাকা না দেওয়ায় মোরশেদ, নিজামের পরিবারের উপর নেমে আসে নির্যাতন, নারীদের করা হয় শ্লীলতাহানি— এ অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

চলতি বছরের ২৫ জুন দাবি করা টাকা না দেওয়ার জেরে চাচা ও চাচাত ভাইয়েরা মিলে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। মোরশেদ ও নিজামের পরিবারের নারীসহ একাধিক জনকে আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এখানেই শেষ নয়, হামলার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করায় দেওয়া হয়েছে প্রাণনাশের হুমকি।

পরে মোরশেদের স্ত্রী সৈয়দা খাইরুন্নেসা রুপা বাদি হয়ে চাচাত ভাই আরিফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা (নম্বর-৩৩১) দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন তারেকুল ইসলাম, আসিফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মো. এসকান্দর, আনিস, মো. তানভীর, মো. শাকিব ও মেজবাহ উল ইসলামসহ

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদির স্বামী ও ভাসুরের কেনা জমিতে খুঁটি দিতে গেলে আসামিরা ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। বাদিরা টাকা দিতে আপত্তি জানালে তাদের শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি করা হয়।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার প্রধান আসামি আরিফুল ইসলাম। তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমরা হামলা করিনি, উল্টো আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তারা আমার চাচাত ভাই, আমরা কেন চাঁদা দাবি করব। ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি।

অভিযুক্ত অপর আসামি তারেকুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে চাচাত ভাইয়েরা আমাদের নামে মামলা করেছে। তারা ক্রয় করা জমির বাইরে খুঁটি বসাতে চাইলে আমরা প্রতিবাদ করেছি।

জানা যায়, ২০০৬ সালে মোরশেদের চাচা জমিটি অন্যজনের কাছে বিক্রি করে দেন। ওইসময় মোরশেদরা জমিটি কিনতে চেয়েছিল।

১৫ বছর পর সেই একই জমিটি আবুল কালাম থেকে কিনে নেন মোরশেদ ও তার ভাই নিজাম। আর এতে ক্ষিপ্ত হয় আসামিরা। চাচা, ও চাচাত ভাইয়েরা পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনার সৃষ্টি করেছে বলে জানায় মোরশেদ।

মোরশেদরা জমির বাইরে এসে খুঁটি বসাচ্ছিলেন এমন অভিযোগ মিথ্যা বলে জমির আগের মালিক আবুল কালাম জানান, তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জমিটি মোরশেদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। জমিটি কখনোই রাস্তার উপর ছিল না।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চান্দঁগাও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। দ্রুত আদালতে তদন্ত রির্পোট জমা দেওয়া হবে।

আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm