পটিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি সংঘবদ্ধ চোরাই অটোরিকশা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পটিয়া থানা পুলিশ। কয়েকদিনের নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং পরিকল্পিত অভিযানে আন্তঃজেলা চক্রের তিন সদস্য হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চারটি চোরাই অটোরিকশা। এর মধ্যে তিনটিরই কোনো নিবন্ধন নম্বর নেই।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে পটিয়া থানা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক।
পুলিশ বলছে, এটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়; চোরাই যানবাহন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখন পুরো সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক উন্মোচনে কাজ করছে তদন্তকারী দল।
পটিয়া থানা পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি পটিয়া ও আশপাশের এলাকায় চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচা বেড়ে যাওয়ার তথ্য পেয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে। কয়েকদিন ধরে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যেবক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে পটিয়া পৌরসভার বাহুলী এলাকায় কৃষি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্ব পাশে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক-সংলগ্ন ফাতেমা মোটরসের সামনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সময় মো. নুরুল আমিন (৩০), উজ্জ্বল মিয়া (৩৬) ও রিমন আহমদকে (২৭) হাতেনাতে আটক করা হয়।
এদিকে উদ্ধার চারটি অটোরিকশার প্রকৃত মালিকদের খোঁজ চলছে। উদ্ধার অটোরিকশার মধ্যে তিনটিই নম্বরবিহীন। অপরটির নিবন্ধন নম্বর চট্টমেট্টো-থ-১১-৪৩৪৩।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে বিভিন্ন জেলার থানার তথ্য, বিআরটিএর নিবন্ধন তথ্য এবং চুরির মামলার ডাটাবেজ যাচাই করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এসব অটোরিকশা বিভিন্ন জেলা থেকে চুরি করে এনে কম দামে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ চোরাই যানবাহন চক্রের সক্রিয় সদস্য হওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন দালাল, ক্রেতা, পরিবহনকারী এবং রিসিভার জড়িত। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আন্তঃজেলা পর্যায়ে সক্রিয় এই চক্র চুরি করা অটোরিকশার নম্বরপ্লেট পরিবর্তন, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত কিংবা নম্বরবিহীন অবস্থায় বিক্রির কৌশল ব্যবহার করে থাকে। সেই নেটওয়ার্কের বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, চোরাই যানবাহন কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত কোনো চক্রকে আইনের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং মাঠপর্যায়ের অভিযানের সমন্বয়ে আমরা সংঘবদ্ধ অপরাধীদের শনাক্ত করছি। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের মূল হোতা ও অন্যান্য সদস্যদের আটকে অভিযান চলছে। একইসঙ্গে উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কেএ/আলোকিত চট্টগ্রাম


