মেয়র রেজাউলও পানিবন্দী, সিটি করপোরেশনে গেলেন বাড়ির পেছনে বিকল্প পথ বানিয়ে

চট্টগ্রাম নগরে অতিবর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবন তলিয়ে গেছে। শুক্রবার (১৭ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে মেয়রের বাড়িতে পানি প্রবেশ করে। পানিবন্দী মেয়র অফিস করতে পারেননি সোমবার (২০ জুন)। এ কারণে বাতিল হয়েছে চসিকের সাতটা নির্ধারিত সভা!

মেয়র উপস্থিত না থাকায় কার্যালয় সামনের অংশ ছিল ফাঁকা। কর্মকর্তা, দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল না। অলস সময় পার করছিলেন মেয়র কার্যালয়ের কর্মীরা।

জানা যায়, মেয়র রেজাউল করিম গত শুক্রবার থেকে রোববার জলাবদ্ধতায় নিরাসনে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ঢাকায় অবস্থান করেন। সোমবার চট্টগ্রাম ফিরে পানিবন্দী হয়ে সকালে অফিস করতে পারেননি। পরে বিকেলে বাড়ির পেছনের রাস্তায় ইট-বালি দিয়ে রাস্তা ঠিক করে অল্প সময়ের জন্য টাইগারপাস অফিসে যান এবং বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন: কথা রাখলেন না মেয়র রেজাউল, নগরবাসীর হাতে দেবেন পলিব্যাগ!

এদিকে মেয়র পানিবন্দী হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, নগরপিতা যেখানে অফিস করতে পারেন না, সাধারণ মানুষ কী করে এই জলাবদ্ধতার মধ্যে অফিস করবে?

বহাদ্দরহাট এলাকার বাসিন্দা সুজয় বলেন, প্রতিবছর বর্ষায় মেয়রের বাসভবন পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা যারা এই এলাকার বাসিন্দা আছি আমরাও পানিবন্দী হয়ে পড়ি। মেয়রের নিজের এলাকার উন্নয়ন নেই, ওনি এত বড় শহরের দায়িত্ব কীভাবে নেবেন বুঝতে পারি না।

মেয়রের বাসভবনের নিচতলায় থাকা বৈঠক ও খাবার ঘরে পানি রয়েছে। বাসার সামনে রাখা মেয়রের গাড়ির চাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানির কারণে এখন মেয়র দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষে থাকছেন বলে জানিয়েছেন বাড়ির দুই নিরাপত্তাকর্মী।

আরও পড়ুন: ওষুধ—চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ছুটে যান মেয়র রেজাউল

চসিক সূত্রে জানা যায়, মেয়রের বাসভবন, বহদ্দারহাটসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খননে একটি প্রকল্প গত আট বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। মেয়রের পাশের এলাকা বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খালটি খননের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০১৪ সালের জুনে। কিন্তু তা এখনো খনন করা হয়নি। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে এসব এলাকায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

জানতে চাইলে মেয়র রেজাউল করিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ‘আমি অফিস করেছি এবং কিছু এলাকা ঘুরে দেখেছি। জলাবদ্ধতা নিয়ে  সংকট, জনদুর্ভোগ কমাতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘১৮টি খালে যে কাজগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা অবগত করেছে তা সম্পূর্ণভাবে পানি চলাচলের উপযোগী করতে হবে। ছোট খাল-নালা-নর্দমা পরিচ্ছন্নতার কাজ চসিক শুরু করেছে।’

টিবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm