কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাটালি রোড যুব পরিষদের বর্ণিল আয়োজন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের এডিশনাল ডিআইজি ইকবাল হোসেন বলেছেন, এ যুগ তথ্যের যুগ, কম্পিউটারের যুগ। এখন তথ্যই শক্তি।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরের এনায়েতবাজারের বাটালি রোডে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজন করে বাটালি রোড যুব পরিষদ। অনুষ্ঠানে অর্ধশত শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।

ইকবাল হোসেন বলেন, তোমরা যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ, তোমরাই জাতির ভবিষ্যৎ, দেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের হাত ধরেই আগামী দিনের নেতৃত্ব আসবে, রাজনীতির কাঠামো তৈরি হবে। আমি তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আগামী দিনের এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও যেন উত্তীর্ণ হয়ে এই এলাকার মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সেই প্রত্যাশা করছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এনায়েতবাজার ওয়ার্ডের চারবারের সাবেক কাউন্সিলর এম এ মালেক। স্থানীয় রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা চাই, আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় আরও এগিয়ে যাক, ভালোভাবে লেখাপড়া করুক। আমাদের এলাকায় অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বকে উদ্দেশ করে মালেক বলেন, আপনি এখানে আসার পর আমরা আশা করেছিলাম, বিদ্যালয়টি উন্নতির দিকে যাবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ফলাফলে আমরা হতাশ হয়েছি। আগেও এখানে প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মতো করার জন্য আপনাকে এখানে আনা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে রেলওয়ে, অপর্ণাচরণ গার্লস স্কুল ও কৃষ্ণকুমারী গার্লস স্কুল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। ওই দুটি স্কুল ভালো করছে। কিন্তু আমাদের প্রাণপ্রিয় রেলওয়ে স্কুল অধঃপতনের দিকে যাচ্ছে। আপনারা মাসে মাসে বেতন নিয়ে চলে যাবেন, আর আমাদের ছেলেমেয়েরা অধঃপতনের দিকে যাবে, সেটি আমরা বরদাশত করব না। এখন থেকে ভালোভাবে শিক্ষাদান করতে পারলে থাকবেন, না হলে চলে যাবেন।

শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সংবর্ধনার আয়োজন করায় যুব পরিষদের নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়ব বলেন, আমাদের স্কুলে একেবারে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরাও ভর্তি হয়। তাদের জন্য আমরা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শাখা চালু করেছি। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মহোদয়ের প্রচেষ্টায় এসএসসি পরীক্ষার আগে দুটি মডেল টেস্টও নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, অভিভাবকদের সভায় ডাকলেও অনেকে আসেন না। তাঁরা ছেলেমেয়েদের প্রতি যথেষ্ট যত্নশীল নন। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে আসে না, শুধু পরীক্ষার সময় পরীক্ষা দেয়। আমি বাসায় বাসায় গিয়েও খোঁজ নিয়েছি।

নিজ বিদ্যালয়ের ফলাফল তুলে ধরে আবু তৈয়ব বলেন, আমাদের স্কুল থেকেও তিনজন শিক্ষার্থী এ প্লাস পেয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী অন্য কোথাও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না, তাদেরও আমরা ভর্তি করি। সাবেক কাউন্সিলর ও মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁদের দিকনির্দেশনায় বিদ্যালয়ের উন্নয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করছি।

শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, যেসব শিক্ষক দায়িত্বে ফাঁকি দেবেন, তাঁদের বিষয়ে মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে বদলির ব্যবস্থা করব। আমি আসার আগে থেকেই স্কুলের অবস্থা খারাপ ছিল। এখানে আসার পর থেকে ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি।

বিদ্যালয়ের আশপাশে কিশোর গ্যাংয়ের জড়ো হওয়া ও ইভটিজিংয়ের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক। এসব বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রিয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও ফলমণ্ডি বাজার সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি বিএনপি নেতা আলী আব্বাস খান। তিনি বলেন, বাটালি রোড যুব পরিষদ একের পর এক চমক দেখাচ্ছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই। তোমরা লেখাপড়ায় মনোযোগী হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাও। তোমাদের পাশে আমরা থাকব। কারও আর্থিক সমস্যা হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আমরা একটি উন্নত জাতি চাই।

অনিকেত ক্লাব সভাপতি আলম বলেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। তোমরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে।

আর. পি. গোল্ডেন ফিসের সিইও এম এ মিঠু শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সুন্দর আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তোমরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করবে। সে সময় তোমাদের ব্যবহার যেন সুন্দর ও সাবলীল হয়। মা-বাবা ও পারিপার্শ্বিক সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাফাত আইস প্ল্যান্টের মালিক মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন বাটালি রোড যুব পরিষদ সভাপতি সাইফুল্লাহ। অনুষ্ঠান শেষে আর. পি. গোল্ডেন ফিসের সিইও পদ থেকে পদত্যাগ করেন এ এম মিঠু।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm