টার্গেট করা ব্যক্তির সঙ্গে মুঠোফোনে খাতির জমান স্ত্রী। এরপর কৌশলে বাসায় ডেকে নিয়ে নগ্ন ভিডিও করে টাকা আদায় করেন সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া স্বামী।
প্রতারকচক্রের এমনই তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে হালিশহর থানা পুলিশ। হালিশহর থানার গুলবাগ আবাসিক এলাকা থেকে রোববার (২৬ মে) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— কথিত সাংবাদিক কামরুল হাসান (৪২), তাঁর স্ত্রী আঁখি আক্তার (৩৩) ও সহযোগী মো.জহির উদ্দিন প্রকাশ বাবু (৪৯)।
আরও পড়ুন : প্রতারণার নয়া ফাঁদ—ক্লিক করলেই টাকা, পরে সর্বহারা
পুলিশ জানায়, প্রতারকচক্রের আঁখি আক্তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। পরে সুযোগ বুঝে দেখা করার নামে বাসায় ডেকে নেন। এরপর ওই ব্যক্তিকে আটকে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন। সেই ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে কথিত সাংবাদিক কামরুল ও বাবু মিলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন।

জানা যায়, রেয়াজউদ্দীন বাজারের এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীর সঙ্গে আঁখি আক্তারের মুঠোফোনে সখ্যতা গড়ে উঠে। একপর্যায়ে তাকে দেখা করার নামে বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন চক্রের সদস্যরা। এরপর কথিত সাংবাদিক কামরুল হাসান ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ, প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন, মোবাইলসহ মোট ৫ লাখ টাকা আদায় করেন।
এরপর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে হালিশহর থানার গুলবাগ আ/এ গোল্ডেন টাচের বিপরীত পাশে রূপালী ভবন থেকে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের মোবাইল থেকে একাধিক ব্যক্তির নগ্ন ভিডিও পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে হালিশহর থানার এসআই কহিনুর ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে টার্গেট ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন চক্রের সদস্যরা। পরে দেখা করার নামে বাসায় ডেকে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে আদায় করেন মোটা অঙ্কের টাকা।
এসআই আরও বলেন, কথিত সাংবাদিক কামরুলের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা রয়েছে।
সিএম/আরবি


