চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কমিটি গঠন করে দিয়েছে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। ১৯৫০ সালে ক্লাবটি গঠনের পর ৭৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ঘটল এমন ঘটনা। এ নিয়ে ক্ষোভে উত্তাল চট্টগ্রাম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হয়েছে সংবাদ সম্মেলনও।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কমিটি গঠনের এখতিয়ার রাখে না ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। কারণ চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একটি স্বতন্ত্র ক্লাব। যা তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র মোতাবেক পরিচালিত হয়। এই ক্লাব কারো শাখা বা অধীনস্থ ক্লাব নয়। চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে শতবর্ষের কাছাকাছি চলে এসেছে তার নিজস্ব গতিতে। কখনো ঢাকা মোহামেডান কিংবা অন্য কোনো সংগঠন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা সহযোগিতা কোনোটাই করেনি বা চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এর প্রয়োজনীয়তাও বোধ করেনি। কিন্তু হঠাৎ চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের একটি এডহক কমিটি গঠন করে দিয়েছে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এখতিয়ার বহির্ভূত। এ ধরনের হঠকারী কমিটি গঠনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের লক্ষ লক্ষ সমর্থকের মনে আঘাত দিয়েছে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের গভর্নিং বডির মহাসচিব শওকত আজম খাজা। বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম ও সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দীপ্তি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, একটি স্বাধীন-স্বতন্ত্র ক্লাবের বৈধ কমিটির বিপরীতে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের এডহক কমিটি প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অনৈতিক। যারা এ ধরনের গর্হিত কাজ করেছেন তারা অন্তত আলোচনা করতে পারতেন। যাকে সভাপতি করা হয়েছে রাজনৈতিকভাবে আমরা একই আদর্শের এবং আমরা তাঁর সহকর্মী। তিনি আমাদেরকে তাঁর প্রত্যাশার কথা জানাতে পারতেন। আমরা তাঁর সাথে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু তিনি সেটা করেননি। এতে একজন রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আমরা নিজেরাও বিব্রত। তবে এখনো আলোচনার পথ খোলা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন দীপ্তি।
দীপ্তি বলেন, ঢাকা মোহামেডান যাকে চট্টগ্রাম মোহামেডানের সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে দিয়েছেন তিনি এক-এগারোর কুশীলব বর্তমানে কারাবন্দী জেনারেল মাসুদ উদ্দিনের দোসর। যে মাসুদ উদ্দিনের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তেমনই একজন ঘৃণিত এবং চিহ্নিত দোসরকে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে ক্লাবটির লক্ষ লক্ষ সমর্থক কোনোদিন মেনে নেবে না।
ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম বলেন, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মতো একটি গৌরবময় সংগঠনের ওপর একটি অবৈধ কমিটি চাপিয়ে দেওয়াটা শুধু গর্হিত কাজই নয়, বরং অবিচার বটে। ঢাকা মোহামেডান কখনোই চট্টগ্রাম মোহামেডানের কোনো কাজে সহযোগিতা বা হস্তক্ষেপ কোনোটিই করেনি বা করার এখতিয়ারও রাখে না।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তার নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপন গতিতে বিগত ৭৬ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেই চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সহসভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান, কোষাধ্যক্ষ ইয়াছিন আরাফাত পাবলু, আবু বকর ছিদ্দিক, মাসুদুর রহমান মাসুদ, নেয়ামত উল্লাহ তৌহিদ, ফজলুল হক সুমন, দিদার হোসেন, দিদারুল আলম জাবেদ, অ্যাডভোকেট ওমর চৌধুরী, সমর্থক গোষ্ঠী সভাপতি শিবলী নোমান সিফাত, সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক হায়দার খান, মো. বেলাল, শওকত খান রাজু, মিয়া হারুন, শেখ আলম রাজু, নুর খান, সাগির আলম, আনোয়ার হোসেন, গোলাম ইয়াজদী এবং শওকত আলী।
আলোকিত চট্টগ্রাম


