মাহমুদুলের মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রী ও মেয়ের কী হবে?

বাবা কাজে গিয়েছিলেন, আর ৬ দিন পর ফিরলেন লাশ হয়ে। এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হলো চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের গোরনখাইন এলাকার মাহমুদুল হকের পরিবার। বোয়ালখালী উপজেলার কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হওয়ার ছয়দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন মাহমুদুল হক (৪০)।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান তিনি।

মাহমুদুল হক পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোরনখাইন এলাকার ডা. জাফরের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত খায়ের আহমদের ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন, সংসারে রয়েছে নয় বছরের এক মেয়ে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে মাহমুদুলের স্ত্রী ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছিলেন না। সংসারের পুরো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মাহমুদুল। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে কনফিডেন্স সল্ট কারখানায় ঠিকাদারের আওতায় ওয়েলডিং মিস্ত্রি হিসেবে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন তিনি। কিন্তু কর্মস্থলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। দীর্ঘ লড়াই শেষে জীবনযুদ্ধে হার মানলেন তিনি।

এখন পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কে দেখবে অসুস্থ স্ত্রী ও শিশুকে।

মাহমুদুলের বড়ভাই মোহাম্মদ নুর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সংসারের সব দায়িত্ব মাহমুদুল একাই সামলাত। ছোট্ট মেয়েটার ভবিষ্যৎ নিয়ে সে অনেক স্বপ্ন দেখত। কিন্তু আজ সেই মেয়েটাই বাবাহারা হয়ে গেল।

তিনি আরও বলেন, আমার ছোট ভাই মাহমুদুল হক দুর্ঘটনার দিনও কাজে যেতে চাননি, শুধুমাত্র গিয়েছিল সেদিন বেতন হবে সে আশায়। কিন্তু এ যাওয়া যে তার শেষ যাওয়া হবে কে জানত। আজ (বৃহস্পতিবার) মাগরিবের নামাজের পর গোরনখাইন এলাকায় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাহমুদুল অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে সবাই তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো গেল না। পরিবারটি এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় ওয়েল্ডিং কাজ চলাকালে একটি গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুনে দগ্ধ হন বেশ কয়েকজন শ্রমিক।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রথমে মারা যান পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের হুলাইন এলাকার নুরুল আলম (৪৫)। আজ সর্বশেষ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন মাহমুদুল হক। এছাড়া মোট ১০ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন এখনও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ কয়েকজন এখনও আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

কেএ/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm