চুয়েটের নতুন ভিসি অধ্যাপক সায়েম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য (ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। রাষ্ট্রপতির আদেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার (২৭ জুলাই) এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। পটিয়ার সন্তান ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিনের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বর্তমানে চুয়েটের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রকৌশল সংগঠনের ফেলো ও সদস্য।

১৯৮০ সালের ২৬ অক্টোবর পটিয়ার নাইখাইন গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. সায়েম। তাঁর বাবা মরহুম হাজী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক উপ কর কর্মকর্তা এবং মা হাজী চেমন আরা বেগম।

চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০০৫ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন ড. সায়েম। প্রায় ২২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি দক্ষ শিক্ষক, গবেষক ও প্রশাসক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন, ডি-কার্বনাইজেশন, ক্লিন এনার্জি, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, বায়োফুয়েল, শক্তি রূপান্তর ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন আধুনিক গবেষণায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর বহু গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। তিনি জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পিএইচডি শেষে অস্ট্রেলিয়ার একটি খ্যাতনামা মাইনিং প্রতিষ্ঠানে মেকানিক্যাল ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেও দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বিদেশে থেকে হয়ত ব্যক্তিগতভাবে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব ছিল। কিন্তু আমার অর্জন যদি শিক্ষার্থীদের কাজে না লাগে, যে বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলেছে তার জন্য যদি কিছু করতে না পারি, তাহলে সেই অর্জনের মূল্য খুব বেশি নয়। আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে চেয়েছি। এখন উপাচার্যের দায়িত্ব নিয়ে চুয়েটকে একটি বিশ্বমানের, গবেষণাভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে চাই। এজন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ চুয়েট পরিবারের সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

কেএ/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm