চকরিয়ায় সন্ত্রাসীর সঙ্গে বাড়ছে কিশোর গ্যাং—বন্দুক নিয়ে আবাসিক হোটেলে ৫ যুবক

চকরিয়ায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। মোটরসাইকেল চুরি থেকে শুরু করে বাসা-বাড়িতে চুরি, ছিনতাই এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না। এ অবস্থায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে দেশি বন্দুকসহ ৫ যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুঘণ্টার অভিযানে পৌর শহরের আবাসিক হোটেল আল ফরিদ থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন— চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিনামারা এলাকার জসীম উদ্দিনের ছেলে কামরুল ইসলাম ছোটন (১৯), একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে তায়েবুল ইসলাম (২২), একই ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে আরফাতুল ইসলাম (২২), পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানপাড়ার রাজীবুল হকের ছেলে মিনহাজুর রহমান নয়ন (২৯) এবং ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রিংভং এলাকার নুরুল কবিরের ছেলে মাহমুদুল করিম (২৮)।

জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার কাঁচাবাজর সড়ক, বালক উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, হাসপাতালপাড়া সড়ক, ফুলতলা সড়ক, মগবাজার, ভাঙ্গারমুখসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসীদের উৎপাত বেড়েছে। তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন নারীও জড়িত। তারা প্রতিনিয়ত রাস্তায় চলাচল করা সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের নানাভাবে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া তারা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে চুরির সঙ্গে জড়িত। ইতিমধ্যে তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন : চকরিয়ায় অস্ত্রের মুখে বাজার থেকে যুবককে তুলে নিয়ে খুন

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কিশোর গ্যাং সদস্যদের অত্যাচারে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার দোকানে এসে টাকা দাবি করে, না দিলে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। প্রতিবাদ করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। ভয়ে কেউ অভিযোগ করার সাহস পায় না।

এ বিষয়ে কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন বলেন, আমার ইউনিয়ন খুব শান্তিপ্রিয় এলাকা। এখানে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গ্রুপ ছিল না। তবে এখন দেখা যাচ্ছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বখাটে বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ে এসে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এলাকায় মোটরসাইকেল, মোবাইল ও গরু চুরি হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিষয়টি থানার ওসিকে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার মফিজুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আজ সকালে তাদের চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। ইদানিং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে হোটেল আল ফরিদ থেকে বন্দুকসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আটকরা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। উপজেলায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে এরা জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আগেও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

এমকেডি/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm