কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারে এবার নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল সংঘবদ্ধ বাইকার গ্যাং। একজন সদস্য আগে এসে মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান ও তল্লাশি কার্যক্রম পর্যেবক্ষণ করতেন। পরে মুঠোফোনে সংকেত পেয়ে একে একে ইয়াবাবাহী মোটরসাইকেলগুলো বিকল্প সড়ক দিয়ে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হতো। তবে সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে দিয়েছে র্যাব-৭।
গোপন সংবাদে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে পটিয়া পৌরসভার সরকারি কলেজ ও ডাকবাংলো এলাকায় বিশেষ তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অভিযান চালায় র্যাব-৭। অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। একইসঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ এবং ছয় যুবককে আটক করা হয়েছে। আটকরা হলেন— মো. বশির (৩৭), মো. হোসেন (৩৭), বেলাল উদ্দিন (৩২), নুরুল মোস্তফা (৩৮), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও মো. হাসান (৩৯)।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক মো. হোসেন এই বাইকার গ্যাংয়ের অন্যতম সক্রিয় সদস্য। তিনি অন্যদের আগে এসে মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে মুঠোফোনে সংকেত দিয়ে ইয়াবাবাহী মোটরসাইকেলগুলোকে সামনে এগিয়ে আসার নির্দেশ দেন। র্যাব প্রথমে হোসেনকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একে একে গ্যাংয়ের অন্য সদস্যদেরও আটক করে।
র্যাব সূত্র জানায়, কক্সবাজারের রামু থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশের সময় মহাসড়কের পরিবর্তে পটিয়া বাইপাস এড়িয়ে ভেতরের সড়ক ব্যবহার করার চেষ্টা করে চক্রটি। গোয়েন্দা নজরদারিতে তাদের এই রুট পরিবর্তনের তথ্য ধরা পড়ে। পরে পটিয়া পৌরসভার ডাকবাংলো এলাকায় মোটরসাইকেলগুলো থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে ইয়াবার চালান উদ্ধার হয়।
র্যাব-৭-এর সিপিসি-৩ (বহদ্দারহাট) কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহন করছিল। তাদের একজন আগে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান পর্যেবক্ষণ করতেন এবং অন্যদের নির্দেশনা দিতেন। প্রথমে একজনকে আটক করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার পরিমাণ আনুমানিক এক লাখ পিস, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পাঁচটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, আটক যুবকরা একটি সংঘবদ্ধ বাইকার গ্যাংয়ের সদস্য। তারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে ইয়াবা চোরাচালান ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র্যাব জানায়, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উদ্ধার এক লাখ ইয়াবা ও পাঁচটি মোটরসাইকেল এবং আটক ছয়জনকে পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কেএ/আলোকিত চট্টগ্রাম


