আনোয়ারাজুড়ে দেবীর আগমনী সুর

আশ্বিনের শারদ প্রভাতে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। আর কাশবনের দোলায় প্রকৃতিতে এখন আগমনীর সুর। দেবী দুর্গার আগমনীর অপেক্ষায় আর মাত্র কয়েকটা দিন। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবী দুর্গাকে বরণের প্রস্তুতি। মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত, প্রস্তুত নিরাপত্তাকর্মীরাও। সবমিলিয়ে এখন উৎসবের আবহ আনোয়ারাজুড়ে।

জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নে এবার ১১২টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা। শারদীয়ার আগমনী হাওয়ায় ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। মাটির অবয়বে রঙ-তুলির আঁচড়ে ধীরে ধীরে পূর্ণরূপ পাচ্ছে প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির কাজে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই মৃৎশিল্পীদের।

এদিকে প্রতিমার রূপ দেখতে ভাস্করশালায় ভিড় করছেন পূজার্থীরা। তাদের চোখেমুখে এখন দেবীর আগমনীর অপেক্ষা।

এদিকে আনোয়ারায় উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পূজামণ্ডপগুলোতে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তার কথা জানিয়েছেন প্রশাসন।

বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, দুর্গোৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকেরা। বেশিরভাগ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। প্রতিমা তৈরিতে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন শিল্পীরা। একজন কারিগর তৈরি করছেন পাঁচ থেকে ছয়টি মণ্ডপের প্রতিমা।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনোয়ারার ১১২টি পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোতেও কাজ চলছে।

দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আনোয়ারা থানা পুলিশ। জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েদ চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন,আনোয়ারা থানার আওতাধীন ৩০১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১৩টি স্থায়ী মন্দির এবং ১৮৮টি ঘটপূজা। নিরাপত্তায় ছয়টি টহল টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক পূজামণ্ডপ থাকা এলাকায় অতিরিক্ত টহল এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

অপরদিকে আয়োজকদের প্রত্যাশা— প্রশাসনের সহযোগিতা ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবে সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পূজা কমিটি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে দুর্গোৎসবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা।

যোগাযোগ করা হলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য সচিব রাহুল ধর আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সরকার ও প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতা করছে এ ধারা অব্যাহত থাকলে আশা রাখি উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে।

আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মহাষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে শুরু হবে ছয়দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব। এ বছর সপ্তমী দুদিন হওয়ায় (শনিবার ও রোববার) পাঁচদিনের উৎসব বেড়ে হয়েছে ছয়দিন।

এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্তে্য আসবেন মা দুর্গা। দেবীর আগমনীর অপেক্ষায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে। অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে মা আবার কৈলাসে ফিরে যাবেন— এমনটিই প্রত্যাশা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm