‘হাসপাতালে আর্তনাদ’ কোথাও নেই আইসিইউ—নেই কেবিন, খালি সিটও মিলছে না

চট্টগ্রামে বাড়ছে করোনা রোগীর চাপ। হাসপাতালে হাসপাতালে চলছে আর্তনাদ। শয্যা থেকে শুরু করে কেবিন, আইসিইউ, হাই ফ্লো অক্সিজেনের সংকট চরমে। ‘সিট খালি’ পাওয়ার আশায় আইসিইউর সামনে বসে আছেন ভর্তির অপেক্ষায় থাকা রোগীর স্বজনরা।

হাসপাতালে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে আহাজারি। তবে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেছেন, কোনো রোগীই বিনা চিকিৎসায় ফেরত যাবে না।

কোরবানি ঈদের পর থেকেই করোনার প্রকোপ বেড়ে একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে। দিন দিন বাড়ছে করোনা শনাক্তের হার। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।

এদিকে রোগী বাড়ায় চাপ বাড়ছে চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। রোগী ভর্তি করাতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনরা।

নগরের সার্জিস্কোপ হাসপাতালে রাঙ্গুনিয়া থেকে আসা আলাউদ্দিন বলেন, করোনা আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য নগরের প্রায় সব হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কোথাও সিট খালি পাইনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাসপাতালের সামনে প্রতিদিনই মুমূর্ষ রোগীর ভিড় বাড়ছে। করোনা আক্রান্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, বুধবার (২৮ জুলাই পর্যন্ত) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৩০০ শয্যার বিপরীতে ৩০২ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৫০ শয্যায় ৪১ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৪০ শয্যায় ১৩৫ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ১৫২ শয্যায় ১৫২ জন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে ৫৪ শয্যায় ৫৪ জন, খুলশির হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১০০ শয্যায় ১০০ জন, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৭৫ শয্যায় ৭৫ জন, পাঁচলাইশের পার্কভিউ হাসপাতালে ৭০ শয্যায় ৭৭ জন, মেহেদিবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে ৫৭ শয্যায় ৫৭ জন, ন্যাশনাল হাসপাতালে ৫০ শয্যায় ৫৩ জন এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৫০ শয্যায় ৫৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পরপর সাইরেন বাজিয়ে আসছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে ঢুকেই শয্যা খালি আছে কিনা জানতে চাইছেন। শয্যা খালি না পেয়ে ছুটছেন অন্য হাসপাতালে।

এদিকে করোনা রোগীর চাপ সামলাতে কয়েকটি হাসপাতালে বাড়ানো হয়েছে কেবিন। আবার নগরের পার্কভিউ হাসপাতালে দ্বিগুণ করা হয়েছে আইসিইউ বেড। এরপরও রোগীর চাপ সামাল দিতে পারছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী এ ধারা অব্যাহত থাকলে চিকিৎসায় সামনে আরও কঠিন সংকট তৈরি হবে বলে শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান বলেন, ঈদুল আজহার আগে থেকেই হাসপাতালে হঠাৎ করোনা রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। এখন আমাদের হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ৯৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। কোনো কেবিন খালি নেই। ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ২৬ জন। রোগীর চাপ বাড়ায় আমরা আইসিইউ ১২টি থেকে বাড়িয়ে ২৪টি করেছি। এরপরও বর্তমানে কোনো আইসিইউ বেড খালি নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা রোগীর পাশাপাশি জেনারেল রোগীর চাপও বেড়েছে। জেনারেল ওয়ার্ডও এখন রোগীতে পরিপূর্ণ। তবুও আমরা সাধ্যের মধ্যে রোগীদের সর্বোচ্চ সেবার দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে করোনা রোগীর বাড়তি চাপ সামলাতে আইসিইউ ও বাড়তি কেবিনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এশিয়ান স্পেশালিষ্ট হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাউদ্দিন আলী। তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, করোনা রোগীর সেবায় আমরা আইসিইউ বেড ও হাই ফ্লো অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করেছি।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যাসঙ্কট দেখা দিলেও চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।

তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, কোনো রোগীকে ফেরত দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ফ্লোরে বেড বিছিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে সেখানে রোগী রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি, মাস্ক পড়া এবং বিধিনিষেধের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা খুবই জরুরি।

আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm