সাপের গ্রাম সারোয়াতলী

বোয়ালখালীর এক গ্রাম। এ গ্রামের খোলা মাঠ হোক কিংবা ধানক্ষেত— নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাপ! অনেক সময় রাস্তার ধারেও দেখা যায়, গুটিসুটি মেরে বসে আছে বিষধর সাপ!

সাপ ঘুরে বেড়ানোর এমন চিত্র বোয়ালখালীর দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামের। দুমাস ধরে যেখানে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এ সময়ে সাপে কেটেছে বেশ কয়েকজনকে। এদের মধ্যে ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিস্ময়কর ঠেকলেও সত্য, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কেউই এটি জানেন না!

তাই ওই গ্রামের শত শত বাসিন্দা আতঙ্কে থাকলেও তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। বিষয়টি যেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতার মতোই— ‘কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে/কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে।’

আরও পড়ুন: ড্রয়ার খুলতেই বেরিয়ে এলো বিষধর সাপ—কামড়ে ‘মহিলা মেম্বারের’ মৃত্যু

জানা যায়, দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামে আচমকা সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। সারা গ্রামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সাপের দল। গর্ত ছেড়ে দলে দলে বেড়িয়ে পড়েছে সাপ। ইতোমধ্যে শুক্লা শীল (৪০), সূর্য শীল (১০), মীরা আইচ (৫৫), সুভাষ পালসহ (৪৫) বেশ কয়েকজনকে সাপে কেটেছে।

সাপ আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা। খোলা মাঠ, ধানক্ষেত, রাস্তার ধারে গুটিসুটি মেরে পড়ে আছে অসংখ্য সাপ। প্রথম দেখায় বোঝা মুশকিল, কোনটি বিষধর সাপ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সুরেশ চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, গত দুমাসে গ্রামের বেশ কয়েকজনকে সাপে কেটেছে। এতে সাপ আতঙ্কে রয়েছে গ্রামের মানুষ।

তিনি বলেন, এ গ্রামের সঙ্গে লাগোয়া রায়খালী খাল খননের কাজ শুরু হলে সাপের উপদ্রব বাড়তে থাকে। ধারণা করছি, খালপাড়ের ঝাড়-জঙ্গল পরিষ্কার করায় সাপেরা বাসস্থান ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ছড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর সাপ ‘রাসেলস ভাইপার’—কামড়ে এক দশকে ২৭২ জনের মৃত্যু

সাপে কাটা সূর্যের বাবা সুজন শীল জানান, আমার ছেলে দক্ষিণ সারোয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। মাসখানেক আগে তাকে সাপে কাটে। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসা শেষে সে সুস্থ হয়।

এর আগে প্রতিবেশী গণেশ শীলের স্ত্রী শুক্লা শীলকেও সাপে কাটে বলে জানান সুজন শীল।

এদিকে দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল বিশ্বাস বলেন, ২৭ নভেম্বর আমার বোন মীরা আইচকে বিষধর এক সাপ কামড় দেয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে যেতে বলেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে তিনদিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর সুস্থ হলে বাড়ি নিয়ে আসি।

তিনি জানান, দুমাস আগেও একই গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ পালকে সাপে কামড়িয়েছিল। তিনিও চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ এখন আবুধাবিতে

দক্ষিণ সারোয়াতলীতে সাপের উপদ্রবের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি। আজই এলাকায় খবর নিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm