মাকে ঘুমিয়ে রেখে শিশুকে নিয়ে পালাচ্ছিল চাচা, ধরা খেল বাসেই

চকরিয়া থেকে হানিফ পরিবহনের বাসে করে এক শিশুসহ তিনজন যাচ্ছিলেন চট্টগ্রামে। এসময় শিশুটি প্রচণ্ড কান্নাকাটি করছিল। শিশুটির কান্না দেখে যাত্রীদের সন্দেহ হলে তারা তিনজনের কাছে জানতে চান শিশুটি কার? তিনজনের মধ্যে আল-আমিন নামের একজন বলেন, আমার সন্তান। শিশুর মা কোথায় জানতে চাইলে এলোমেলো উত্তর দিতে থাকেন। এতে সন্দেহ হয় সবার। পরে তাদের কর্ণফুলী থানায় নিয়ে যাওয়া যায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেরে একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃত শিশুটি আল-আমিনের ছোট ভাইয়ের ছেলে।

বুধবার (৩০মার্চ) দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে চকরিয়া উপজেলায়। এর আগে মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় শিশুটিকে অপহরণ করা হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

এদিন দুপুরে হানিফ বাসের সুপারভাইজার ও যাত্রীদের সহায়তায় অপহৃত শিশুসহ অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। পরে খবর পেয়ে ওইদিন রাতে অপহৃত শিশু ও অপহরণকারীদের চকরিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়।

আরও পড়ুন: ৫ বছরের শিশুকে বলাৎকার করল ৩ পাষণ্ড, এরপর ভিডিও দিল ফেসবুকে

এদিকে বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনায় অপহৃত শিশুর মা জোসনা আক্তার চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইঙ্গাকাটা এলাকার আলী হোসেনের ছেলে ও অপহৃত শিশুর বড় চাচা মো. আল-আমিন (২৬), চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর এলাকার মো. ফারুকের ছেলে মো. আরিফ (২৪) ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ হাতিয়ার মাগুরাবাজার এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে নুরুন্নবী (২৫)।

মামলার বাদী ও ভিকটিমের মা জোসনা আক্তার বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে খাবার খেয়ে দরজা বন্ধ করে সবাই যে যার রুমে ঘুমিয়ে পড়ি। ওইদিন রাতের কোনো একসময় আমার ভাসুর আল-আমিনের নেতৃত্বে অপহরণকারীরা সুকৌশলে বাড়ির দরজা খুলে আমার শিশু সন্তানকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ভোররাতের দিকে আমার ঘুম ভাঙলে দেখি পাশে ছেলে নেই। এরপর আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। পরে প্রতিবেশীদের ঘটনাটি জানাই।

তিনি আরও বলেন, পরদিন দুপুরের দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পায় আমার সন্তানকে উদ্ধার করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। এসময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি চকরিয়া থানার ওসিকে জানালে তিনি পুলিশের একটি টিম পাঠিয়ে আমার সন্তান নুরুল কাদের উদ্ধার করেন। এ সময় আটক তিনজনকেও কর্ণফুলী থানা থেকে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন: ছড়াখালে মৃত্যুফাঁদ—কেড়ে নিল অবুঝ শিশুর প্রাণ

এ বিষয়ে হানিফ পরিবহণের সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, বাসে একটি শিশুসহ তিনজন চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। এসময় শিশুটি বেশি কান্নাকাটি করছিল। গাড়ির যাত্রীদের সন্দেহ হলে তারা জানতে চান, শিশুটি কার? তখন আল-আমিন নামের একজন বলেন, এটা আমার সন্তান। শিশুর মা কোথায় জানতে চাইলে উল্টাপাল্টা উত্তর দেন । এতে সবার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। পরে তাদের কর্ণফুলী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা স্বীকার করেন, শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে। শিশুটির বয়স চার মাস। শিশুটি আল-আমিনের ছোট ভাইয়ের ছেলে বলে জানায়।

যোগাযোগ করা হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, শিশুর আপন বড় চাচা পারিবারিক শত্রুতার জেরে চারমাস বয়সী শিশু নুরুল কাদেরকে অপহরণ করেন। বাসের সুপারভাইজার ও যাত্রীদের সহায়তায় অপহৃত শিশুকে উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। পরে খবর পেয়ে অপহৃত শিশুসহ আটক তিনজনকে চকরিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা আল-আমিনসহ তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মুকুল/আরবি

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm