সপ্তাহ না যেতেই পুরনো রূপে নতুন সড়ক

নতুন করে নির্মিত হয়েছে সড়কটি। তবে ওই সড়কে গেলে তা বোঝার উপায় নেই। কারণ নির্মাণের এক সপ্তাহের মধ্যেই যে সড়কটি ফিরে গেছে পুরনো রূপে!

এমন অবস্থা হাটহাজারী উপজেলার ১৪ নম্বর শিকারপুর ইউনিয়নের আতর আলী সড়কের। সড়কটি নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর এ অভিযোগ দেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. লোকমান হাকিম।

অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কাপ্তাই সড়কের উত্তর ওয়ার্ডের বাদামতল,পশ্চিম কুয়াইশ এলাকার বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে গিয়ে পাথরের খোয়া বের হয়ে এসেছে। এতে যানবাহন ও মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ।

স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ না পেরুতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচঢালাই।

আরও পড়ুন: ‘হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে’ তলিয়ে যাচ্ছে চকবাজার টু বহদ্দারহাট সড়ক, জেগে ঘুমাচ্ছে চসিক—সিডিএ

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুবছর আগে আতর আলী সড়ক উন্নয়নকাজের জন্য ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পান রফিকুল মওলা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রফিক। কাজ পেয়ে তিনি মাসুদুর রহমান নামে আরেক ঠিকাদারের কাছে সেই দরপত্র বিক্রি করে দেন।

এরপর ২০২০ সালের শুরুতে সড়কটিতে মেকাডম (ইটের খোয়া) ফেলে দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। তবে মাসখানেক আগে তড়িঘড়ি কাজ শুরু করা হয়। এ কাজে নিম্নমানের বিটুমিন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন। কিন্তু কারো কথা কানে তোলেননি সেই ঠিকাদার। এছাড়া বিটুমিন তৈরির সময় কবরস্থানের একটি সড়ক ফেটে যায়। সে সড়কও মেরামত করা হয়নি।

জানা গেছে, এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে রাতের অন্ধকারে সড়ক সংস্কারকাজ শেষ করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, সড়ক সংস্কার কাজে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে পিচঢালাই ও ইটের খোয়া। এতে রাষ্ট্রের টাকা অপচয়ে দুর্নীতিবাজরা লাভবান হলেও বাড়ছে ভোগান্তি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশের কারণে কোনো কিছুকেই পাত্তা দেন না ওই ঠিকাদার।

আরও পড়ুন: টানেল—সংযোগ সড়কে দক্ষিণ চট্টগ্রামে দখিনা হাওয়া

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের হাটহাজারী কার্যালয়ের প্রকৌশলী জয়শ্রী দে আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, শিকারপুর আতর আলী সড়কে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠার কারণে আমরা বিষয়টি নজরে রেখেছি৷ কাজ না করে কেউ বিল তুলতে পারবে না। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ঠিকাদারকে কাজ করেই বিল নিতে হবে।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিদুল আলম বলেন, সড়কটির কাজ ভালোভাবে দেখার জন্য ইঞ্জিনিয়ারকে বলা হয়েছে। কোনো কাজ বাকি থাকলে তা শেষ করে ঠিকাদার বিল বুঝে নিবেন। ইঞ্জিনিয়ার যদি কাজ বুঝে না পান তাহলে ঠিকাদার বিল তুলতে পারবেন না।

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm