বাজেটে মদের দাম বাড়ানোয় বিরোধী দল নাখোশ
দিনজুড়ে কক্সবাজারে নানা কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
র গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, এমপিসহ বিএনপি নেতারা।
প্রবল বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় তাঁর গাড়িতে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. জুবাইদা রহমান এবং সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদ।
পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত পথসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পথসভায় তিনি বলেন, খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, এবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোনো দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, লবনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসপত্র আছে সেগুলোর উপর অযৌক্তিক ট্যাক্স তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৬০টি পণ্যের উপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য একটাই, দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বলছে, এই বাজেট গণবিরোধী; এই গণবিরোধী বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই, যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যে বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যে বাজেটে সিগারেটের দাম বড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। আশা করি, এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছেন?
তারেক রহমান বলেন, আমার মনে হয় বাজেটে মদ-সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে বিরোধী দল চরমভাবে নাখোশ হয়েছে। তাই তারা এ বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল-সমাবেশ করছে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে একটি অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কিন্তু কৃষির সাথে সাথে আমাদেরকে শিল্প-বাণিজ্য গড়ে তুলতে হবে। শিল্প-বাণিজ্য গড়ে উঠলে আমাদের সন্তানদের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
তিনি বলেন, আমি বলতে চাই, এদেশের মালিক আপনারা। দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক কোনো পরিবার নয়, দেশের মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ২০ কোটি জনগণ।
কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং স্থানীয় নেতা হারুনুর রশিদ।
সাফারি পার্ক পরিদর্শন
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান পার্কের বিভিন্ন প্রাণীর বেষ্টনী ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় ডা. জুবাইদা রহমানকে মুঠোফোনে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি ধারণ করতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান সাফারি পার্কের পরিদর্শন খাতায় স্বাক্ষর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সাফারি পার্কে একটি গাছের চারা রোপন করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালুমঘাট বন বিভাগের আওতাধীন অভয়রাণ্যে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি চারা রোপন কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
জুলাইযোদ্ধার কবর জিয়ারত
মালুমঘাট এলাকায় বৃক্ষরোপন কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা ইউনিয়নের জুলাই গণঅভ্যাত্থানের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করতে যান। এ সময় শহীদ ওয়াসিমের বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। পরে শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।
ফলক উন্মোচন
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নবসৃষ্ট পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মেচন করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলক উন্মেচন শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আমন্ত্রণে তার বাসভবন সাঈদ ম্যানসনে মধ্যাহ্ন ভোজে যান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মেচন করতে সালাহউদ্দিন আহমদের বাসভবন থেকে রওনা দেন।
মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মেচন শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দেশে যখনই নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে কক্সবাজারের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। ২৪-২৫ বছর আগে আমি কক্সবাজার এসেছিলাম। তখনও যেই সড়ক দেখে গেছি, এখনও সেই সড়ক রয়ে গেছে। সম্প্রসারণ করা হয়নি। আমি কথা দিচ্ছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ থেকে ৬ লেনে উন্নীত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই এলাকার মানুষ মৎস্য চাষ, ধান চাষ ও লবণ চাষের সাথে সম্পৃক্ত। তাই এই অঞ্চলের মানুষ যাতে লবণের ন্যায্য মূল্য পান সেজন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাতে শহরের একটি সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এছাড়া তিনি সমুদ্রসৈকতে যাবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্ক অবস্থানে আছেন।
দিনভর নানা কর্মসূচি শেষে রাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর।
আলোকিত চট্টগ্রাম
