জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পিটিয়েছে পুলিশ। এরপর নিয়ে যায় থানায়। শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাতের এ ঘটনায় এখন উত্তপ্ত দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। লজ্জার এ ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামে!
এদিকে এ ঘটনায় নগরের খুলশি থানার পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ক্রিকেটার নাঈম হাসান সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের ফ্লাইটে তাঁর চট্টগ্রাম আসার কথা ছিল। তবে দেরি হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রাম পৌঁছান। এরপর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশা করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।
তিনি আরও জানান, অটোরিকশাটি এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লালখানবাজার এলাকায় নামার পর এক পুলিশ সদস্য থামার সংকেত দেন। অটোরিকশা থামাতেই কয়েকজন ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে নেন। এরপর নাঈমকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্রও দেখান। কিন্তু ঘটনাস্থলে থাকা খুলশি থানার এসআই শফিকুল ইসলাম হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাঁকে মারতে থাকেন। এ সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের সোর্স সোহেলও হাতে থাকা পাইপ দিয়ে নাঈমাকে পেটান।
আহত জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার বলেন, প্রায় ১০০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও তারা মারধর থামায়নি। তারা বলছিল—তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না।
এদিকে মারধরের একপর্যায়ে আরেকটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ক্রিকেটার নাঈম। তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ি থাকলেও সেখানে আমাকে তোলা হয়নি। মারধরের একপর্যায়ে আমাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল।
তিনি আরও বলেন, অটোরিকশা থেকে নামানোর পর আমার ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। থানায় আসার পর ফোনটি পেয়ে আমি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে ফোন করি। তিনি বিসিবির সদস্য ইসরাফিল খসরুকে বিষয়টি জানান। এরপর তাঁরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
নাঈম হাসান বলেন, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আজকে আমার সঙ্গে হয়েছে। আমার জন্য অনেক লোক থানায় এসেছে। কিন্তু সাধারণ কোনো লোকের জন্য কেউ থানায় আসবে না। আর কাউকে যাতে এভাবে হয়রানির শিকার হতে না হয়।
এদিকে নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চোরাচালানের তথ্য ছিল অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে। তবে এই তথ্য কতটুকু সঠিক যাচাই করা হচ্ছে। আর অভিযান চালানোর আগে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে কিনা তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযান কিংবা তল্লাশিতে পুলিশের কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে।
পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ছুটিতে ঢাকায় রয়েছেন খুলশি থানার এসআই মনিরুল ইসলাম। তিনি এসআই শফিকুল ইসলামকে তথ্য দেন একটি অটোরিকশায় সোনার চোরাচালান আসবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে শফিকুল লালখানবাজারে অভিযানে যান। মনিরুলের দাবি, তিনি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে চোরাচালানের এই তথ্য পেয়েছেন।
এর আগে নাঈম হাসানকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর মধ্যরাতে সেখানে হাজির হন তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও ক্রিকেটপ্রেমীরা। ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে এ ঘটনায় আজ (১৩ জুন) সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এতে এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে খুলশি থানার ওসি আরিফুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে কিছু জানাননি। থানায় নিয়ে আসার পর ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় জানি। দুঃখ প্রকাশ করে সসম্মানে থানা থেকে ওনাকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। তবে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ওনারা থানা থেকে যাবেন না জানান। পরে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক ক্লোজড করা হয়েছে বলে জানান ওসি আরিফুর রহমান।
আলোকিত চট্টগ্রাম
