চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের ১০ স্পটে রমরমা বালু-বাণিজ্য

রাউজানে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক দখল করে চলছে বালুর রমরমা বাণিজ্য। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পশ্চিম গহিরা এলাকায় এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। সড়কের ওপর বালুর ব্যবসার কারণে বেড়েছে দুর্ঘটনা। এছাড়া সড়ক সংকুচিত হয়ে গাড়ি চলাচলে পেতে হচ্ছে বেগ। এতসব সমস্যা তৈরি হলেও দেখার যেন কেউ নেই।

জানা যায, হালাদা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের পাশে। এ সড়কের রাউজান অংশের হালদা ব্রিজ থেকে পশ্চিম গহিরা এলাকা পর্যন্ত অন্তত ১০টি স্পটে প্রকাশ্যে চলছে এমন বাণিজ্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হালদা থেকে উত্তোলন করা পানিসহ বালু রাখার ফলে নষ্ট হচ্ছে সড়ক। এছাড়া প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে হতাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়কের ওপর বালু ব্যবসায় জড়িত ২০-৩০ জনের চক্র। তাদের পৃথক বালুমহাল রয়েছে। হালদার বিভিন্ন স্পট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে মহাসড়কের ওপর রেখে তারা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা। অপরদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বড় রাজস্ব থেকে।

আরও পড়ুন : বালুখেকোদের নতুন ফন্দি—রাতের ‘চুরি’ দিনে হয়ে যায় ‘বৈধ’ বাণিজ্য

ইউনুচ সুফিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও হামদু মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সড়কের পাশ দিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে বাতাসে উড়ে এসে চোখে-মুখে পড়ছে বালু। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা হাঁচি ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বালুর কারণে পথচারীরা আক্রান্ত হচ্ছে নানা রোগে।

স্কুলছাত্রী উম্মে হাবিবা কুসুম বলেন, সড়কের ওপর বালুর ব্যবসার কারণে ধুলো-বালিতে সয়লাব পুরো স্কুল। আমাদের অনেক সহপাঠী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ব্যবসা বন্ধ হওয়া দরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামদু মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, আমাদের স্কুলের পাশ ঘেঁষে অবৈধ বালুর রমরমা ব্যবসা চলছে। ধুলো-বালির কারণে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি করছি, অবিলম্বে সড়কের ওপর বালুর ব্যবসা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগজ্যাই মারমা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ইজারা না নিয়ে হালদা নদী থেকে যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়ক দখল করে বালুর ব্যবসা বন্ধে চালানো হবে অভিযান।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm