চট্টগ্রামে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকায় রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৮টা থেকে গাড়ি আসার আগেই টিসিবির পণ্য কিনতে লাইন ধরেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। গাড়ি আসে প্রায় সকাল ১১টার দিকে। সাড়ে ১১টার দিকে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে নারীদের মধ্য বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি থেকে মারামারিতে রূপ নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। বন্ধ হয়ে যায় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পণ্য বিক্রি না করে চলে যায় পণ্যবাহী ট্রাকটি। এসময় পিছু নেয় লাইনে থাকা নারী-পুরুষরা। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে চকবাজার থানা পুলিশ।
এদিকে বিশৃঙ্খলার কারণে চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকায় পণ্য বিক্রি না করে প্যারেড কর্ণার এলাকায় পণ্য বিক্রি করা হয়।
আরও পড়ুন : চকবাজারে দলবল নিয়ে এলেন কাউন্সিলর টিনু, হঠাৎ উধাও টিসিবির পণ্যও!
স্থানীয়রা জানান, জায়গা অনুযায়ী মানুষের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে প্রতিবারই ঝামেলা সৃষ্টি হয়। আগে দেওয়া হতো প্যারেড কর্ণার এলাকায়। সেখানে জায়গা বড় থাকায় ঝামেলা হতো না। বিষয়টি ওয়ার্ড সচিবকে একাধিকবার বলা হলেও তিনি কানে তুলেননি।
তপন দাশ নামে এক দোকান মালিক অভিযোগ করে বলেন, আমার দোকানের সামনে এসে টিসিবির ট্রাকটি প্রতিবার দাঁড়িয়ে যায়। বললে বলে, এখানে বিক্রির নির্দেশনা আছে। সরানো যাবে না। ট্রাক দাঁড়ানোর ফলে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা আমার বেচাবিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিবারই পণ্য কিনতে আসাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চকবাজারের ওয়ার্ড সচিব মো. মাহাবুবুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। নারীদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছিল। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। প্রতিবার দেখা যায় নারীদের মধ্যে কিছু না কিছু সমস্যা লেগে থাকে। তাদের কিছু বলতেও পারি না। পরে ঝামেলা এড়াতে টিসিবির ট্রাকটি সরিয়ে নিয়ে প্যারেড কর্ণার এলাকায় পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য বিক্রি শেষ করা হয়েছে। কাঁচাবাজার এলাকা থেকে বিক্রি কার্যক্রম সরিয়ে আগামীতে একই এলাকায় দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি রোববার ও বুধবার চকবাজার এলাকায় টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হয়। একটি ট্রাকে ৪০০ জনের পণ্য দেওয়া হয়। সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য বিক্রিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে।
যোগাযোগ করা হলে চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুল কবির আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তখন ট্রাকও ছিল না। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


