এতকিছুর পরও এতটুকু কমেনি সেই ৪ সার্ভেয়ারের ক্ষমতা

জাল-জালিয়াতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। হয়েছে একাধিক মামলাও। কিন্তু এতকিছুর পরও এতটুকু কমেনি তাঁদের ক্ষমতা। বলছিলাম ভূমি অধিগ্রহণ শাখার ৪ সার্ভেয়ারের কথা।

ক্ষমতাধর ওই ৪ সার্ভেয়ার হলেন— ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার মো. আব্দুল মোমেন, রফিকুল ইসলাম, মো. ইমাম হোসেন গাজী ও মাহবুব হাসান দীপু।

অভিযোগ রয়েছে, ৪ সার্ভেয়ারের এ চক্রের খপ্পড়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছের ভূমি অফিসের অসংখ্য নিরীহ গ্রাহক।  এবার এক সিআইপি’র অধিগ্রহণ করা ভূমির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে  হয়েছে মামলা।

আদালত সিআইডিকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম প্রথম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলায় ৪ সার্ভেয়ারের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে চান্দগাঁও থানার ইয়াছিন হাজির বাড়ির শেখ আহমদের ছেলে রাশেদুল ইসলাম এবং বাঁশখালী দক্ষিণ জলদি এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. ইদ্রিস প্রকাশ বাবুলকে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, চান্দগাঁও এলাকার আবুল কালাম আজাদের (সিআইপি) পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর মৌজার একটি জমি খাল খনন প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা হয়। এতে অভিযোগকারীর জমির কাগজপত্র নিয়ে প্রতারণা করেন আসামিরা। অধিগ্রহণ করা জমি রাশেদুল ইসলামের নামে করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ ইয়াছিন আরাফাত আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এ ঘটনায় আবুল কালাম আজাদের (সিআইপি) পক্ষে মামলা করেন আইনজীবী জসিম উদ্দিন। অভিযোগ আমলে নিয়ে অভিযোগকারীর কাগজপত্র জব্দ করে আগামী মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ঘুষ দাবি ও দুদকের মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকির অভিযোগে জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এতেও ভূমি সার্ভেয়ার আব্দুল মোমেন, সার্ভেয়ার ইমাম হোসেন গাজী, সার্ভেয়ার, মোক্তার হোসেন, সার্ভেয়ার আবু কায়সার সোহেল ও অফিস সহকারী বেলায়েত হোসেন বুলুকে আসামি করা হয়। তখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই ৪ সার্ভেয়ার বছরের পর বছর সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ রয়েছে।

আরএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm