২০ মিনিট আগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের থেকে কেড়ে নেওয়া হলো খাতা!

পটিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ মিনিট আগেই পরীক্ষার্থীদের থেকে খাতা নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে পটিয়া জিরি খলিল মীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১০৯ নম্বর হলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রটির ১০৯ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী পিঙ্গলা বুধপুরা মফিজুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিবি আয়েশা বর্ষা অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে হলরুম অন্ধকার হয়ে যায়। তখনও পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় ২০ মিনিট সময় বাকি ছিল। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অন্ধকারের অজুহাতে আমাদের থেকে জোর করে খাতা নিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই আমাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এতে আমাদের এডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড ভিজে গেছে।

একই কেন্দ্রের একাধিক পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০ মিনিট আগে খাতা নিয়ে নেওয়ায় তারা প্রশ্নের উত্তর শেষ করতে পারেননি। এতে তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে কেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই খাতা নিয়ে নেওয়া অন্যায়। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে— এটা অমানবিক আচরণ। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব বদিউল আলম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমন কিছু হলে শিক্ষার্থীরা তো এসে আমাকে জানাত। তবে পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের ৩০৮ নম্বর কক্ষের ছাত্ররা হলের সিসিটিভি ক্যামেরা, লাইট, ফ্যান ও ঘড়ি ভাংচুর করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। তারপরও অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দিপেন কান্তি দে বলেন, বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো উচিত। তিনি কেন্দ্র কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে এ ঘটনায় পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm