শৈশবে ফিরে গেলেন বিচারপতি সচিব শিক্ষকরা

কলাউজান ডা. এয়াকুব বজলুর রহমান সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়

লোহাগাড়ার ঐতিহ্যবাহী এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কলাউজান ডা. এয়াকুব বজলুর রহমান সিকদার উচ্চ বিদালয়। এই স্কুলের অসংখ্য ছাত্র এখন দেশ-বিদেশের নামিদামি ব্যক্তি। তাঁদের কেউ নামকরা শিক্ষক, কেউ চিকিৎসক, কেউ সচিব, আবার কেউ বিচারপতি!

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়েই এবার হলো অন্যরকম এক আয়োজন— ‘স্মৃতিতে খুঁজি, স্মৃতিতে বাঁচি, প্রিয় অঙ্গনে চলো প্রীতিবন্ধন গড়ি’।

অনন্য এ আয়োজনের নেপথ্যে ছিল কলাউজান ডা. এয়াকুব বজলুর রহমান সিকদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদ। দিনব্যাপী আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনীর পাশাপাশি ছিল গুণীজন সংবর্ধনাও।

২ এপ্রিল (বুধবার) স্কুল প্রাঙ্গণে এ আয়োজন সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক অরুন কান্তি পাল।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ব্যাংকার মো. জসিম উদ্দিন, ক্রীড়া ভাষ্যকার সেলিম উদ্দিন ও শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলার প্রাক্তন শিক্ষার্থী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ইসমাইল।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন।

বর্ণিল এ আয়োজনের শুরুটা হয় শোভাযাত্রায়। এতে স্কুলের স্কাউট দল ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশ নেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শোভাযাত্রা শেষে স্কুল প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানে উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল আলম চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি কারা হাসপাতালের সাবেক প্রধান চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান।

এরপর অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধিতরা হলেন— নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ইসমাইল, বরিশাল সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ) চন্দন কান্তি নাথ, কারা হাসপাতালের সাবেক প্রধান চিকিৎসক মোস্তফিজুর রহমান, আইন-বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আব্বাস উদ্দিন, প্রফেসর ড. কনক কুমার বড়ুয়া, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মো. মুমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাড. মকবুল আহমদ এবং সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী জজ রিগান বড়ুয়া সৌরভ।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল আলম চৌধুরী।

প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের সদস্য সচিব হারুন অর রশিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন ব্যাংকার শাহাদত হোসাইন, শিক্ষক আবদুল গফুর, আসহাব উদ্দিন, কায়দা আজম, সমরেশ বড়ুয়া, শিক্ষক আবদুস ছবুর, রোকন উদ্দিন, রূপন কান্তি নাথ, আবু হানিফ, ব্যাংকার তুষার বড়ুয়া, বেলাল উদ্দিন, হামিদ হোসেন আজাদ, ফৌজুল কবির ও রাকিব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মো. ইসমাইল বলেন, আমাদেরকে মানবিক ও নৈতিক গুণ সম্পন্ন হতে হবে। প্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় এগিয়ে যেতে হবে। আমার প্রাণপ্রিয় এই স্কুলকে কারিগরি শিক্ষায় উন্নীত করতে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব। আজকের সংবর্ধিত সকল অতিথির সার্বিক সহযোগিতায় এই বিদ্যালয় আলোকিত ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের পুনর্মিলনী, গুণী শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আগামীতেও করার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রফেসর ড. ইসমাইল।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm