রাউজানে মামলা নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরি মেরে আপন ছোট ভাইকে খুন করেছে বড় ভাই। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খানপাড়া গ্রামের মমতাজের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহাগ মিয়া একই এলাকার মৃত মমতাজ মিয়ার ছেলে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ূন কবির, রাউজান থানার ওসি জাহিদ হোসেন ও চুয়েট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক এসআই জাবেদ মিয়া।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছর ধরে বড় ভাই সোনা মিয়া ও ছোট ভাই সোহাগ মিয়ার পরিবারের মধ্যে পারিবারিক মামলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার সেই মামলায় আদালতে সাক্ষী ছিল। এদিন বিকেলে আদালত থেকে আসার পর সোনা মিয়া হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি নিয়ে সোহাগের ওপর হামলা চালায়।
আরও পড়ুন : স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে যুবক ঝুলল দড়িতে, বাবা বলছে খুন
এসময় দুপরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে সোনা মিয়া সোহাগকে ধারালো ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী গুলিয়ান আকতার ও সোহাগের সৎভাই শাহেদের স্ত্রী কোহিনুর আকতারও আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহাগকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্য হয়।
নিহতের স্ত্রী গুলিয়ান আকতার বলেন, আমার স্বামীকে ভাসুর সোনা মিয়া ও তার ছেলে তারেক খুন করেছে। তারা আমার ও আমার জা কোহিনুর আকতারকে পিটিয়ে আহত করেছে। ঘটনার সময় আমার স্বামী প্রাণে বাঁচতে সৎভাই শাহেদের ঘরে আশ্রয় নেয়। তারা শাহেদের ঘরের দরজা ও বেড়া ভেঙে প্রবেশ করে ছুরি মেরে নৃশংসভাবে আমার স্বামীকে খুন করে। পারিবারিক বিরোধের মামলার জেরে আমার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। আমি ২ ছেলে সন্তান ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে কী করে বাঁচবো?
সৎভাই শাহেদের স্ত্রী কোহিনুর আকতার বলেন, সন্ধ্যায় সোনা মিয়া ও তাঁর ছেলে তারেকসহ পরিবারের সদস্যরা অতর্কিতভাবে সোহাগ মিয়ার ওপর ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা শুরু করেন। এসময় সোহাগ মিয়া প্রাণ বাঁচাতে আমার ঘরে আশ্রয় নেয়। একপর্যাযে দরজা ভেঙে সোনা মিয়া ও তাঁর ছেলে ঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে সোহাগ মিয়াকে গুরুতর আহত করেন। ওইসময় সোহাগ মিয়াকে বাঁচাতে আমি ও তাঁর স্ত্রী গুলিয়ান এগিয়ে গেলে আমাদেরকে গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম বলেন, দুভাইয়ের মধ্যে মামলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই জেরে বড় ভাই ছোট ভাইকে খুন করেছে। এ ঘটনায় দুপরিবারের প্রায় ৭-৮ জন আহত হয়েছে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে পাহাড়তলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দিন বলেন, মামলার একটি বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বড় ভাই ধারালো ছুরি দিয়ে ছোট ভাইকে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে চুয়েট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক এসআই জাবেদ মিয়া বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সোনা মিয়া, তার স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করা হয়েছে ।
যোগাযোগ করা হলে রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই অজয় দেব শীল বলেন, নিহত সোহাগ মিয়ার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এসএ/আরবি


