মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের চাউকিট এলাকার তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে হুন্ডি ব্যবসায় জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মালয়মেইলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, এই হুন্ডি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চক্রটি কুয়ালালামপুরের ক্লাং ভ্যালিতে বাস করা বাংলাদেশিদের টার্গেট করে হুন্ডি ব্যবসা চালাত। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এই হুন্ডি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল চক্রটি।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, দীর্ঘ এক মাসের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযান মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে শুরু হয়। অভিযানে ২৪ থেকে ৪২ বছর বয়সের আট বাংলাদেশি পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হুন্ডি ব্যবসার জন্য চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে খুচরা ও পাইকারি দোকানগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত।
এক বিবৃতিতে জাকারিয়া শাবান বলেন, চক্রটি ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের টার্গেট করে বিদেশি এজেন্টদের নামে নিবন্ধিত ই-ওয়ালেট এবং স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করত। যেসব গ্রাহকের ডিজিটাল বা ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার ছিল না, তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়ে তা স্থানান্তর করা হতো।
এই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বলেন, সিন্ডিকেটটির এজেন্টরা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যদিবস (রোববার থেকে বৃহস্পতিবার, স্থানীয় সময় বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত) অনুসরণ করে তাদের লেনদেন চালাত। তদন্তে চক্রটির বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ই-ওয়ালেট অ্যাকাউন্টগুলোতে ১ লাখ ৮০ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিতের বেশি লেনদেনের রেকর্ড পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা এই বেআইনি কার্যক্রম থেকে আয় করা নগদ ২৪ হাজার ৭২০ রিংগিত, পাঁচটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, সিসিটিভি সরঞ্জাম, কিউআর কোড এবং বেশ কিছু বাণিজ্যিক নথি জব্দ করেছেন। জব্দ করা দলিলের মধ্যে মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশনের নথির কপি, কুয়ালালামপুর সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স, দোকানের অফিসিয়াল সিল এবং চাবি রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার আট বাংলাদেশির মধ্যে দুজনের মালয়েশিয়ায় থাকার অনুমোদিত মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় অবস্থানের প্রমাণ মিলেছে। বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন পাসের শর্ত লঙ্ঘন বা অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আট বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তদন্তে সহায়তার জন্য আরও দুই বাংলাদেশি পুরুষ এবং এক মালয়েশীয় পুরুষ ও এক মালয়েশীয় নারীকে ইমিগ্রেশন অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে।
আলোকিত চট্টগ্রাম

