দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার ফেসবুক পেজ হ্যাক, ব্ল্যাকমেল ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মো. আনিসুর রহমানকে (৩৮) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন পত্রিকাটির সাবেক মফস্বল সম্পাদক আনিসুর রহমান। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহরিয়ার কবির। তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিককে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে আনিসুর রহমান অভিযুক্ত করা হয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার বাওকপালিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আনিসুর রহমান প্রতিদিনের কাগজের ডিজিটাল বিভাগের ফেসবুক পেজ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি সম্পাদককে জানান, পত্রিকার ফেসবুক পেজ হ্যাক হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি অফিসে আসা বন্ধ করে দেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে হ্যাক হওয়া ফেসবুক পেজটি ব্যবহার করে পত্রিকার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মানহানিকর ভিডিও আপলোড করা হতে থাকে। এরপর ২০২৬ সালের ৯ মার্চ রাত ১০টা ৪৭ মিনিটে আনিসুর রহমান ফোন করে হ্যাক হওয়া ফেসবুক পেজটি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। সর্বশেষ ১২ মার্চ একাধিক মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ থেকে কল করে টাকা দাবি করেন এবং ভয় দেখান। মামলা দায়েরের পর আনিসুর রহমান পলাতক ছিলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডিএমপির ডিবি সাইবার ইউনিটের এসআই রেজাউল করিম জানান, আসামি আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
জানতে চাইলে প্রতিদিনের কাগজ সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আলোকিত চট্টগ্রাম


