প্রতারণা করতেই ফেসবুকে মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি পোস্ট!

রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভুয়া গল্প ছড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসা রিয়াদ বিন সেলিম নামের এক প্রতারক গ্রেপ্তার হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে পটিয়া থানা পুলিশের একটি দল পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের পাইকপাড়ার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় রিয়াদ বিন সেলিমের কাছ থেকে সিএসএফ চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স পরিচয়ে ভুয়া আইডি কার্ড, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, ওয়াকিটকি সেট, সিগন্যাল লাইট, মনিটরিং সেল কার্ড, ওয়াকিটকি সদৃশ মোবাইল ফোন এবং একটি আইটেল বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফেসবুক আইডিতে রিয়াদ নিয়মিতভাবে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে নিজের ‘ঘনিষ্ঠতার’ ছবি পোস্ট করতেন।

পুলিশের ধারণা, এসব ছবি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিশ্বাস অর্জন করতেন তিনি।

জানা যায়, কুমিল্লার দেবীদ্বারের কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তির জামিন করানোর কথা বলে তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিকাশে প্রথমে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা নেন রিয়াদ বিন সেলিম। এরপর সরাসরি আরও ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহারসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

যোগাযোগ করা হলে পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আসামি অত্যন্ত কৌশলে নিজেকে প্রভাবশালী মহলের লোক হিসেবে পরিচয় দিতেন। ভুয়া আইডি, এআই ছবি এবং যোগাযোগের মিথ্যা গল্প দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতেন। আমরা তার মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে আরও বড় প্রতারণা চক্রের তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছি।

পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোমান আহমেদ বলেন, এ ধরনের প্রতারকরা এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও সংগঠিতভাবে অপরাধ করছে। জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি যদি চাকরি, জামিন বা সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি করে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে হবে।

এদিকে পুলিশের পিসিপিআর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিয়াদ বিন সেলিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা, মাদক মামলাসহ প্রতারণা সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।

কেএ/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm