পটিয়ায় পুলিশ পরিচয়েও ডাকাতি, আতঙ্ক

গভীর রাত। হঠাৎ বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ে কয়েকজন। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তারা। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শুরু হয় তাণ্ডব। এক বাড়ি থেকে লুট করা হয় প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা। এরপর গলায় ছুরি ধরে পাশের আরেকটি বাড়ির দরজা খুলতে বাধ্য করা হয় এক নারীকে। সেখান থেকেও লুট হয় প্রায় ২ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২০ হাজার টাকা। যাওয়ার সময় নিয়ে যায় সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক।

পটিয়ায় মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ রোববার (৩০ আগস্ট) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের পূর্ব আজিমপুর আলী মিয়ার বাপের বাড়ি এলাকায় দুই প্রবাসীর বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা হলেন— ওই এলাকার প্রবাসী মো. সিরাজ ও মো. নুরুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাবা মো. সিরাজ পেশায় কৃষক। রাতে বাড়ির পাশের জমিতে ফসল পাহারা দিতে তিনি ঘর থেকে বের হন। এ সুযোগে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ডাকাতরা বাড়িতে প্রবেশ করে। ঘরে ঢোকার পর প্রথমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয় তারা। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন ওরা পুলিশ নয়, ডাকাত।

পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতরা ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করতে থাকে। এই বাড়ি থেকে তারা প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা লুট করে।

এরপরও থামেনি ডাকাতরা। নুরুল ইসলামের মা রাজিয়া বেগমের গলায় ছুরি ধরে পাশের প্রতিবেশী সিরাজের বাড়ির দরজা খুলতে বাধ্য করা হয়। পরে ওই বাড়িতেও পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে।

শুধু টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে ক্ষান্ত হয়নি ডাকাতরা। দ্বিতীয় তলায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নিয়ে যায় তারা।

ভুক্তভোগী প্রবাসী নুরুল ইসলাম বলেন, তারা প্রথমে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। পরে আমি বুঝতে পারি, তারা ডাকাত। তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করলে আমাকে চড়-থাপ্পড় দিতে শুরু করে। তাদের সবার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ছিল।

স্থানীয়রা জানান, ডাকাতরা এলাকায় প্রবেশের সময় চাকরি শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় পিকআপচালক তারেককেও জিম্মি করে। ডাকাতির খবর যাতে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, সে কারণেই তাঁকে জিম্মি করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ফাহিম বলেন, ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর নুরুল ইসলাম প্রতিবেশীদের বাড়িতে এসে ঘটনাটি জানান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।

জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা শুনেছি। তবে এখনো ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।

এদিকে পটিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিনিয়ত ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৬ আগস্ট গভীর রাতে কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে প্রায় ৮ লাখ টাকা এবং ৫ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

এর আগে ২৫ জুলাই ভোরে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদণ্ডী গ্রামে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২৫ হাজার টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চারটি গরু ও নগদ ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। লুট হওয়া গরুগুলোর দাম প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় এখনো দৃশ্যমান বড় ধরনের সাফল্য দেখাতে পারেনি পুলিশ। ফলে রাত বাড়লেই গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন একই উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। ডাকাতরা পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকছে, এমনকি সিসিটিভির হার্ডডিস্ক পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে। এতকিছুর পরও এসব ঘটনার নেপথ্যে থাকা চক্রটি শনাক্ত হচ্ছে না কেন।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর শুধু ঘটনাস্থল পরিদর্শন নয়, আগের ডাকাতির ঘটনাগুলোর সঙ্গে সর্বশেষ ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখে সংঘবদ্ধ ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে। একইসঙ্গে রাতে পুলিশের টহল বাড়ানোরও দাবি জানান স্থানীয়রা।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm