চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিনে এবার নতুন মোড়

চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন ঘিরে যখন চেম্বার আদালতে চলছে শুনানির প্রতীক্ষা তখনই নিয়েছে নতুন মোড়। এবার কারাবন্দী এই ব্রহ্মচারীকে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) আবেদন করা হয়েছে।

আজ (৪ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আগামীকাল (৫ মে) ভার্চ্যুয়াল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়। চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয়েছে আরও ৩ মামলায়। খুনের মামলার পাশাপাশি পুলিশের কাজে বাধাদান, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলাসহ তিনটি মামলায় চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন করা হয়েছে। এসব মামলারও আগামীকাল ভার্চ্যুয়াল শুনানি হবে।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আজ চেম্বার আদালতে চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এমআই ফারুকীর মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে সুপ্রিম কোর্টে বিচারিক কার্যক্রম অর্ধবেলার পর স্থগিত রাখা হয়। ফলে এদিন আর চেম্বার আদালতে চিন্ময় ব্রহ্মচারীর মামলার শুনানি হয়নি।

এদিকে চিন্ময় ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আজ চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালতের প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকাল ১১টার দিকে ‘ছাত্রসমাজ’ আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে আইনজীবী আলিফ হত্যার বিচার ও চিন্ময়ের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান চিন্ময় ব্রহ্মচারী। এদিন বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রুল যথাযথ বলে রায় দেন। এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়।

এদিকে একইদিন দুপুরে হাইকোর্টে জামিন মিললেও বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে তা স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও আরশাদুর রউফ। কিন্তু আসামির কোনো আইনজীবী শুনানির সময় ছিলেন না। পরে সন্ধ্যার দিকে চেম্বার আদালত জামিন স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার করে ৪ মে শুনানির দিন ধার্য করেন।

জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ২ জানুয়ারি চিন্ময়ের জামিন আবেদন খারিজের আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ। এরপর ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টে জামিন চান চিন্ময় দাস। ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর জামিন প্রশ্নে রুল দেন হাইকোর্ট। বিষয়টি একই বেঞ্চের গত ১৯ মার্চের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৩ এপ্রিল বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ৪৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

৩০ এপ্রিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল যথাযথ বলে আদেশ দেন। এদিকে চেম্বার আদালত প্রথমে জামিন স্থগিত করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে ৪ মে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়া নিয়ে গত বছরের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। এছাড়া আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে খুনের ঘটনায় তারা বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরো ১৫/১৬ জনকে আসামি করা হয়।

পাশাপাশি আলিফের ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাংচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা করেন নগরের কোতোয়ালি থানায়।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত বছরের ২৬ নভেম্বর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আইনজীবী হত্যার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দিলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে আদালত ৩ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য রাখেন। সেদিন চিন্ময়ের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত শুনানির জন্য ২ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রাখেন। ওইদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়।

প্রসঙ্গত, গেল বছরের ৩১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কিন্তু ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm