চাঁদা না পেয়ে মাদ্রাসার কোরবানির চামড়ার গাড়ি নিয়ে গেল পুলিশ

আনোয়ারায় চাঁদা না পেয়ে কোরবানি পশুর চামড়াবাহী পিকআপ থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে  আনোয়ারা থানার বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৭ জুন) রাত ১২টার দিকে সাতকানিয়ার দক্ষিণ চরতি মজিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১২৫ পিস চামড়া নিয়ে ট্যানারি বটতল কালা বিবির দীঘি এলাকায় গাড়িটি আটক করা হয়। পরে গাড়িটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা যায়, আনোয়ারা থানার এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভুঁইয়া গাড়িটি আটক করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এসময় চাঁদা না দেওয়ায় থানায় নিয়ে গাড়িটি আটকে রাখে।

আরও পড়ুন : আনোয়ারার নতুন চেয়ারম্যানের নামে একের পর এক ফেসবুক আইডি

পরে মাদ্রাসা কমিটি ও এক সাংবাদিকদের অনুরোধে দুঘণ্টা পর গাড়িটি ছেড়ে দেন ওসি। কিস্তু ট্যানারি এলাকায় পৌঁছাতে রাত সাড়ে তিনটা বেজে যায়। এসময় চামড়ার কোয়ালিটি নষ্ট হওয়াসহ সব আড়ত চামড়া কেনা বন্ধ করে দেয়। পরে উপায় না দেখে এক আড়তদারেরর কাছে প্রতি পিস চামড়া মাত্র ৫০ টাকা দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সাতকানিয়ার দক্ষিণ চরতি মজিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি মাস্টার আবুল হোসেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মাদ্রাসার চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য সোমবার রাতে ট্যানারিতে নিয়ে যাচ্ছিলাম। এসময় আনোয়ারা থানার এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভুঁইয়া গাড়িটি আটক করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে তিনি গাড়িটি থানায় নিয়ে যান।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ওসিকে গাড়ি ছাড়তে অনুরোধ করলে তিনি নানা অজুহাত দেখান। পরে রাত দুটায় গাড়িটি ছাড়েন। ততক্ষণে ট্যানারি বন্ধ  এবং চামড়ার কোয়ালিটিও নষ্ট হয়ে যায়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার এসআই হোসেন ইবনে নাঈম ভুঁইয়া বলেন, আমাদের একটি নির্দেশনা ছিল। সেজন্য গাড়িটি আটক করি। পরে মাদ্রাসার গাড়ি জানতে পেরে ছেড়ে দিই।

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল আহমেদ বলেন, এরকম কোনো বিষয় জানা নেই। বিষয়টি আমি জেনে বলতে পারব। কেউ যদি চাঁদা দাবি করে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাঞ্চন/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm