দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিককে ফাঁসাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন মো. শহিদুল ইসলাম। অনুসন্ধানী সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে শহিদুলের দায়ের করা জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় অভিযোগের সত্যতা পাননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তাই খোদ বাদী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুর আলম। শহিদুল ইসলাম দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক।
তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, মামলার বাদী তাঁর অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
মামলার এজাহারে শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাংবাদিক বানানোর কথা বলে খায়রুল আলম রফিক তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এছাড়া পত্রিকায় পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলার সাক্ষী মির্জা সোবেদ আলী রাজার কাছ থেকে আরও ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে।
তবে তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মামলার বাদী শহিদুল ইসলামকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী হাজির করতে এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি।
এমনকি মামলায় উল্লেখ করা ঘটনার স্থান, সময় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বর্ণিত ঘটনার সময় বাদী নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মো. খায়রুল আলম রফিককে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে মো. খায়রুল আলম রফিককে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন। একইসঙ্গে মিথ্যা ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের অভিযোগে বাদী মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় প্রসিকিউশন বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
এ বিষয়ে জানতে শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
পরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ সম্পাদক মো. খায়রুল আলম রফিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শহিদুল ইসলাম একসময় আমার প্রতিষ্ঠানে কিছুদিন কাজ করেছিলেন। প্রতারণার অভিযোগে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, এরপর থেকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে শহিদুল ইসলাম আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে শতাধিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁর এসব অভিযোগের অধিকাংশই তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
খায়রুল আলম রফিক বলেন, শহিদুল ইসলামকে যেন আল্লাহতালা হেদায়েত করেন।
এদিকে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েম রেজা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, এ ধারায় মিথ্যা ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে অপরাধের ধরন ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে।
আলোকিত চট্টগ্রাম


