চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে টিকিটের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরেও টিকিট পান না প্রত্যাশীরা। তবে কাউন্টারের আশপাশে অতিরিক্তি টাকায় মিলে টিকিট! আর এসব টিকিট ব্যবস্থা করে দেন খোদ রেলওয়ে নিরাত্তা বাহিনীর (আরএনএবি) সদস্যসহ টিকিট কালোবাজারিরা।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে সারা বছর টিকিট কালোবাজারি চলে। ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেলে টিকিট কালোবাজারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। ঈদের টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কালোবাজারিরা টিকিট কেটে নিজেরা রেখে দেন। পরে তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের মাধ্যমে টিকিট দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে। এবারও ঈদুল আজহার টিকিট কালোবাজারি হাতে চলে যাওয়ায় ভোররাত থেকে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়েও ট্রেনের টিকিট পাননি অনেকেই।
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, রেলওয়ে পুলিশ ও কর্মকর্তাদের যৌথ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হয়। তাদের টিকিট পেতে সহযোগিতা করেন স্টেশনের বুকিং সহকারী, স্টেশন মাস্টার ও ম্যানেজার। স্টেশনের আশপাশ ও রিয়াজুদ্দিন বাজারের কয়েকটি দোকানেও বাড়তি দামে বিক্রি হয় টিকিট।
এছাড়া আরএনবির সদস্যদের ডিউটিতে থাকা অবস্থায় স্টেশনের আশপাশে প্রকাশ্যে টিকিট বিক্রি করতে দেখা যায়। ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি দিলেই টিকিট ব্যবস্থা করে দেন তারা। গত ৩ জুলাই কালোবাজারিতে টিকিট বিক্রির সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাবিলদার মো. রবিউল হোসেন ও সিপাহী মো. ইমরান হোসেন ৯টি টিকিটসহ র্যাবের হাতে আটক হন। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৯টি আন্তনগর ও ৬টি মেইল ট্রেন ছেড়ে যায়। এই স্টেশনে প্রতিদিন ৫ হাজার টিকিট বিক্রি হয়। প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টিকিট কালোবাজারিতে যায়। প্রতিটি টিকিট থেকে গড়ে ২শ থেকে ৩শ টাকা করে হলে প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় কালোবাজারিরা।
রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী দেলোয়ার হোসেন, সহকারী স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম ও বুকিং সহকারী মো. জসিম উদ্দিনসহ আরএনবি, রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন অস্থায়ী পিম্যান আবদুল হালিম আকাশ ও বুকিং ক্লার্ক মতিনুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন।
রেলওয়ে স্টেশনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, টিকিট কেটে রাখার পর হঠাৎ বুকিং সহকারী ও টিকিট অপারেটররা ডিসপ্লে কম্পিউটারে টিকিট নেই শব্দটি জুড়ে দেন। তারপর কেটে রাখা টিকিটগুলো কালোবাজারিদের হাতে তুলে দেন তারা। স্টেশনে টিকিটের জন্য হাহাকার শুরু হলে নির্ধারিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাড়তি দামে টিকিট কিনতে বাধ্য করেন তারা।
এ ব্যাপারে জানতে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে লাইন কেটে দেন।
এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম


