চট্টগ্রামে হাসপাতাল—স্কুলে পার্কিং গায়েব!

নগরের যানজট নিরসনে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। শুরুতেই অভিযান চালানো হয়েছে হাসপাতাল ও  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। অভিযানে ধরা পড়েছে নগরের নামিদামি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পার্কিং গায়েব হওয়ার চিত্র!

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে এসব অভিযান চালানো হয় I

পার্কভিউ হাসপাতাল

পরিদর্শনে দেখা যায়, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ড্রপিং বে ২০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় ১৫ ফুট। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতালের পার্কিং এলাকায় রোগীদের যানবাহনের ব্যবহার খুবই সীমিত ছিল। সেখানে সিলিন্ডার ও অফিসের বিভিন্ন মালামাল সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। চউকের পক্ষ থেকে এসব সামগ্রী অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের যানবাহন যাতে নির্বিঘ্নে পার্কিংয়ে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য পার্কিং চিহ্ন, দিকনির্দেশনা এবং টোকেন ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইবনে সিনা হাসপাতাল

চউকের পক্ষ থেকে অনুমোদিত নকশাসহ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হলেও পরিদর্শনের সময় কেউ নকশা উপস্থাপন করতে পারেননি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটি চউকের আবাসিক প্লটের মধ্যে নির্মিত এবং হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। পার্কিং ব্যবস্থাপনায় কোনো নির্দেশনা বা চিহ্ন নেই এবং মাত্র দুই-তিনটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পার্কিং এলাকায় ছিল সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন সামগ্রী।

ডেল্টা হাসপাতাল

হাসপাতালটির অনুমোদন আবাসিক ভবনের জন্য। আবাসিকের জন্য অনুমোদিত নকশায় ২০টি পার্কিং স্থানের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মাত্র তিন থেকে চারটি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া কোনো ড্রপিং বে পাওয়া যায়নি।

ডক্টরস হাসপাতাল

এখানে কোনো পার্কিং সুবিধা নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগে থেকে অবহিত না করায় তারা অনুমোদিত নকশা উপস্থাপন করতে পারেনি। এখানে কোনো ড্রপিং বে নেই, সেটব্যাকও রাখা হয়নি।

চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল (সিজিএস)

কারচুপি ছিল সিজিএসের চট্টেশ্বরী ক্যাম্পাসেও। আবাসিক ভবনে পরিচালিত এ ক্যাম্পাসের অনুমোদিত নকশায় ২৬টি পার্কিং স্থানের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মাত্র একটি পার্কিং স্থান রয়েছে।

চট্টগ্রাম আইডিয়াল হাই স্কুল

বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। পার্কিং এলাকায় স্কুলের নিজস্ব মাইক্রোবাস রাখা দেখা যায়। এ সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে স্কুল বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
চেয়ারম্যান বললেন…

পরিদর্শন শেষে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এক মাস সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট সহনীয় পর্যায়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে স্কুলবাস চালু এবং সম্ভব হলে স্থায়ী ও উপযুক্ত ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

চউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমরা হাসপাতাল মালিক, স্কুল কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে নিয়ে বসব। এই শহরকে বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এআর/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm