চট্টগ্রামে থামছে না বৃষ্টি। টানা ভারী বর্ষণে বাড়ছে পানি। নগরের বিভিন্ন রাস্তা-অলিগলি কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড় ধসের শঙ্কায় জারি করা হয়েছে সতর্কতা।
বুধবার (২১ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি আজ (২২ আগস্ট) সকালেও ছিল। এতে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। দুর্ভোগে পড়েন অসংখ্য মানুষ।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৪১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টি আরও অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। রয়েছে পাহাড়ধসের শঙ্কা।
এদিকে রাস্তায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানির কারণে অনেক স্থানে বন্ধ হয়ে গেছে গণপরিবহন। এসময় যাত্রীদের ভরসার বাহন হয়ে উঠে রিকশা কিংবা ভ্যানগাড়ি। এসব বাহনে বাড়তি ভাড়ায় যাত্রীদের পৌঁছাতে হয় গন্তব্যে। তবে বেশি দুর্ভোগে পড়েন চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও নারী কর্মজীবীরা।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে পানির নিচে অলিগলি থেকে রাজপথ
নগরে টানা বৃষ্টিতে চকবাজার, কাতালগঞ্জ, পূর্ব ষোলশহর, পশ্চিম বাকলিয়া, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুনম্বর গেইট, জিইসি, ওয়াসা মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকার নিচতলার বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে পড়ে। যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েন এলাকার মানুষ।
![]()
গত ২০ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নগরে ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এদিনও পানিতে তলিয়ে যায় চট্টগ্রামের সব নিচু এলাকা। বুক সমান পানি উঠে মুরাদপুর এলাকায়। এর আগে ১৯ আগস্ট রেকর্ড করা হয় ১২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
এদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের মধ্যে সতর্কতা জারির পরও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে এখনও সরেনি বহু পরিবার। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে পাহাড় ধসে প্রাণহাণির ঘটনা।
জানা যায়, সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন ঝুঁকিপূর্ণ মোট ২৬টি পাহাড় আছে চট্টগ্রাম নগরে। এসব পাহাড়ে বাস করে ৬ হাজার ৫৫৮টি পরিবার। ২৬ পাহাড়ের মধ্যে ১৬টি সরকারি সংস্থার ও ১০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন। বর্তমানে ৫ হাজার ৭৬১ কোটি টাকার তিনটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এরপরও জলবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পতেঙ্গার সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল বারেক বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে মধ্যাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামে পাহাড়ধস কিংবা ভূমিধস হতে পারে। আগামী দুএকদিনের মধ্যে বৃষ্টি কমে আসতে পারে।
আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম


