সাক্ষ্য দেওয়ায় সাক্ষীকেও খুন, সেই ঘাতক যুবক গ্রেপ্তার

হত্যা মামলার সাক্ষী গৃহবধূ লায়লা খুনের মূল হোতা ইরানকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) জোরারগঞ্জ থানার ইছাখালী ইকোনোমিক জোন ভাবির মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব-৭ এর একটি দল।

আটক ইমরান নগরের ইপিজেড থানার ২ নম্বর মাইলের মাথা মহব্বত মুন্সি বাড়ির মৃত আবুল বশরের ছেলে।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ১১ এপ্রিল পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এরশাদ (২২) নামে এক যুবককে নগরের ইপিজেড থানার মাইলের মাথা মহিউদ্দিনের গ্যারেজের সামনে মারধর করেন ইরান ও তার দুই ভাই। দেশি অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত এরশাদকে ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যক্ষদর্শীরা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার পরদিন (১২ এপ্রিল) এরশাদ মারা যান।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে খুন করে যাবজ্জীবন জেলে থাকতে হবে আলেক শাহকে

এ ঘটনায় ইরান ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইপিজেড থানায় হত্যা মামলা করা হয়। এরপর আসামিদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু তারা জামিনে বেরিয়ে এসে সাক্ষ্য না দিতে সাক্ষীদের ভয় দেখান। কিন্তু লায়লা বেগম স্বামী কবির আহম্মেদ (৬৫) ও ছেলে ওমর ফারুক (৩১) এরশাদ হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ জানুয়ারি ইরান, তার দুই ভাইসহ অন্যান্য সহযোগীরা মিলে ইপিজেড থানা এলাকায় লায়লা বেগমের বসতভিটায় হামলা চালায়। এরপর লায়লা বেগম ও তার ছেলেকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৬ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় চমেক হাসপাতালে মারা যান লায়লা বেগম। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় ইরান ও তার দুই ভাইয়ের নামে আরেকটি মামলা করা হয়। এরপর থেকে পলাতক ছিল তিন ভাই।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র পরিচালক (মিডিয়া) মো.নুরুল আবছার জানান, নগরের ইপিজেড এলাকার চাঞ্চল্যকর এরশাদ হত্যা মামলার সাক্ষ্য দেওয়ায় লায়লা বেগমকে খুন করা হয়। এ ঘটনায় আসামিকে গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত শুরু করে র‌্যাব। একপর্যায়ে আসামি জোরারগঞ্জ থানার ইছাখালি ইকোনোমিক জোন ভাবির মোড় এলাকায় অবস্থান করছে— এমন সংবাদে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইরান গৃহবধূ লায়লা হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় দুটি হত্যা মামলাসহ ৪টি মামলা রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এএইচ/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm