চট্টগ্রামে ‘শোক দিবসের’ আলোচনায় দেখা মেলেনি সুজন—ছালামের

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় দেখা মেলেনি চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুচ ছালামের। এনিয়ে নগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তবে শোক দিবসে মহানগর আ’লীগের আলোচনা উপস্থিত না হওয়া প্রসঙ্গে সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন আলোকিত চট্টগ্রামকে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তিনি জানান, আমি সকালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। তবে ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় বিকেলের আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকতে পারিনি।

এদিকে আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুচ ছালামের দেখা মেলেনি শোক দিবসের পুরো আয়োজনে। এছাড়া করোনাকালে নগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতেও তাঁকে দেখা যায় না বলে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জানতে আব্দুচ ছালামের মুঠোফোনে একাধিক কল করেও সাড়া মেলেনি।

আরও পড়ুন: ‘চসিক সচিবের কাণ্ড’—শোক দিবসে প্লাস্টিকের ফুল দেখে ‘অগ্নিমূর্তি মেয়র’

রোববার (১৫ আগষ্ট) বিকালে জাতির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য বাসযোগ্য ভূমি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভৌগলিক স্বাধীনতার সাথে জাতির সাম্য-মৈত্রী- শান্তি ও প্রগতির জয়যাত্রা রচনা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সে জয়যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রাজনীতিতে আমাদের সবাইকে পরিশুদ্ধ হতে হবে। যারা একদিন ইতিহাসের চাকাকে উল্টো পথে পরিচালনা করেছে ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ভুলন্ঠিত করে পাকিস্তানি ভাবধারায় এদেশকে পরিচালনা করেছিল। তারা আজও ঘাপটি মেরে আছে। তাদের মুখোশ উন্মোচিত করে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সফলতা যেন কোনো অবস্থায় ব্যর্থ না হয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সংগঠনের চেইন অব কমান্ড আমাদের সবাইকে মেনে চলতে হবে।

সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসের বর্বরতম ও নৃশংস কালো অধ্যায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টারমাইন্ড ও প্রধান সুবিধাভোগী জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার ও শাস্তি বিধান নিশ্চিত করে ইতিহাসের দায়মুক্তি এখন সময়ের দাবি।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে শারীরিকভাবে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ ও স্বপ্নের মৃত্যু হয়নি। পৃথিবীতে যতদিন আকাশ-বাতাস এবং চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারা থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু অম্লান, অমলিন ও চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন। এই সত্যকে যারা অস্বীকার করে তাদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার নেই। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার অধিকার নেই। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার ইন্ধনদাতা ও বেনিফিসিয়ার তাদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, একজন মানুষের ৬টি জন্মদিন হয় কীভাবে? ১৫ আগস্ট শোক দিবসকে কালিমা লিপ্ত করে যারা ভুয়া জন্মদিন করে তাদের জীবন্ত কবর দিতে হবে।

তিনি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ব্যক্তি বড় নয়, দল ও দেশ বড়। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ছন্নছাড়ার মতো সস্তা জনপ্রিয়তার মোহে এমন কিছু করা যাবে না যাতে সরকার, দল ও নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতার জোর’—৪ কোটি টাকার জমি ৮ হাজারে ভাড়ায় লাগালেন চসিক প্রশাসক সুজন

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ৭৫’র ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করে একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসররা ভেবেছিল আবার পাকিস্তান কায়েম হবে। সেদিন যা ঘটেছিল তা পৃথিবীর জঘণ্যতম অপরাধ। এই অপরাধকে আড়াল করতে হত্যাকারীদের অপরাধের দায়মুক্তি জন্য রাতারাতি ইনডেমিনিটি আদেশ জারী হয়। যাকে জিয়াউর রহমান আইনসিদ্ধ করেন এবং হত্যাকারীদের পুনর্বাসিত ও পুরস্কৃতও করেন। এই অপপ্রয়াস ইতিহাসের পাপবিদ্ধ অধ্যায়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, উপদেষ্টা শেখ মাহমুদ ইসহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, হাসান মাহমুদ শমসের, অ্যাডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, হাজী জহুর আহাম্মদ, মাহবুবুল হক মিয়া, জোবাইরা নার্গিস খান, দিদারুল আলম চৌধুরী, আব্দুল আহাদ, মো: আবু তাহের, ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, শহীদুল আলম, জহর লাল হাজারী, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল মনসুর, সৈয়দ আমিনুল হক, ইঞ্জি. বিজয় কৃষাণ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ, বখতিয়ার উদ্দিন খান, সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার, মহব্বত আলী খান, ডা. নেছার উদ্দীন মঞ্জু, বেলাল আহমেদ, থানা আওয়ামী লীগের হাজী সিদ্দিক আলম, মমিনুল হক, মো. ইলিয়াস ও রেজাউল করিম কায়সার। 

চৌধুরী মাহবুব

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm