‘শনাক্তের উচ্চহার’—আলোচনার সামনে লকডাউন, চোখ ‘পরিস্থিতিতে’

টানা ১৯ দিনের ‘কঠোর’ বিধিনিষেধ শেষে ১১ আগস্ট থেকে দেশে খুলতে শুরু করেছে প্রায় সবকিছুই। তবে এখনও করোনা শনাক্তের সংখ্যা রয়ে গেছে বিপজ্জনক পর্যায়ে। বিষয়টি মাথায় রয়েছে সরকারের নীতি-নির্ধারকদেরও। ইতোমধ্যে সরকারের দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বলেও ফেলেছেন, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হলে আবার বিধিনিষেধ (লকডাউন) দেওয়া হবে।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত বছর প্রথমবারের মতো বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এরপর আরও কয়েক দফায় তা আরোপ ও শিথিল করা হয়। সর্বশেষ ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবারও বিধিনিষেধ জারি হয়।

এ দফার বিধিনিষেধ চলাকালে পোশাক কারখানাসহ অধিকাংশ শিল্পকারখানা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। জরুরি সেবা, গণমাধ্যম ও খাদ্য উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট পরিবহন ছাড়া সব ধরনের গণপরিবহনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে তা আরেক দফা বাড়িয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়।

এরমধ্যেই শিল্প মালিকদের দাবির মুখে ১ আগস্ট থেকে খুলে দেওয়া হয় রপ্তানিমুখী কারখানা। ৬ আগস্ট থেকে ফ্লাইট চালু করা হয় অভ্যন্তরীণ রুটে। এরপর ১১ আগস্ট থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহন চালুর মাধ্যমে বিধিনিষেধ প্রায় পুরোটাই তুলে নেওয়া হয়। ১২ আগস্ট আরেক প্রজ্ঞাপনে পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদনকেন্দ্র খোলাসহ আসে আরও কিছু ‘ছাড়ে’র ঘোষণা।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে করোনা—এবার শনাক্তে এগিয়ে নগর, মৃত্যুতে গ্রাম

এতকিছুর পরও দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি ভাবাচ্ছে সরকারকে। সরকারের দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এরমধ্যেই জানিয়েছেন আবার বিধিনিষেধের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনার কথা।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ফের বিধিনিষেধ (লকডাউন) দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি কৌশল অবলম্বন করব আমরা। একটা হলো বিধিনিষেধ বা লকডাউন দেওয়া। আরেকটি হচ্ছে ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু সবাইকে মাস্ক পরতে হবে।

ফরহাদ হোসেন বলেন, নিউ নরমাল লাইফে আমরা যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলে সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে পারব। আমাদের এখন স্বাস্থ্যবিধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। মাস্ক পরে, শারীরিক দূরত্ব মেনে সবাই তারা তাদের কাজগুলো করবে, সেটিই আমরা প্রত্যাশা করি। আমাদের সংক্রামক ব্যাধি আইন আছে, কেউ আইন ভাঙলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এরআগে সোমবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মানুষের জীবন ও জীবিকার স্বার্থে সরকার লকডাউন শিথিল করছে। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় আবারও কঠোর লকডাউন দেওয়া হতে পারে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বলেন, দেশে করোনা শনাক্তের হার একটু কমছে। কিন্তু মৃত্যু এখনও ২০০-এর ওপরে আছে। সে বিষয়ে আমাদের নজর রাখতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ২ হাজার ৮৮৩ নমুনা পরীক্ষায় ৫৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬ জন নগরের এবং ২৫৩ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

একইসময়ে মারা গেছেন ৯ জন করোনা রোগী। এরমধ্যে নগরের ১ জন ও উপজেলার ৮ জন।

চট্টগ্রামে এ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের মোট ৯৩ হাজার ২৩৪ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm