‘মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে প্রতারণা’—অনুদানের নামে হাতিয়ে নিল ৪৩ হাজার টাকা

অভিযোগের তীরে ইউপি সদস্য দম্পতি

রাঙ্গুনিয়ার এক মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।

গত ২ আগস্ট রাতে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের (৬৪) এ প্রতারণার শিকার হন। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আবু আবছার (৫২)। তিনি উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।

এদিকে এ ঘটনায় ইউপি সদস্য আবু আবছার (৫২) ও তাঁর স্ত্রী সাজু আক্তারের (৪২) বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং রাঙ্গুনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতারণার শিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা।

রাঙ্গুনিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার খাইরুল বশর মুন্সি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সাথে প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ চরম অন্যায় কাজ। যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

অপরদিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আবু আবছার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন: করোনায় মৃত্যু—বীর মুক্তিযোদ্ধার লাশ ‘কবরে’ নিতে বাধা, অ্যাম্বুলেন্স ঠেকাতে ‘ব্যারিকেড’

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায় স্ত্রী সাজু আক্তারকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদেরের বাসায় পাঠান ইউপি সদস্য আবু আবছার। সাজু আক্তার আব্দুল কাদেরকে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে দেন আবছারের সঙ্গে। এ সময় আবছার জানান, সরকার মুজিববর্ষ উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের ২ লাখ টাকা করে অনুদান দিচ্ছেন। সেজন্য ইউএনওর সঙ্গে মোবাইলে (০১৮৯১-৬০১৬৭৮) কথা বলতে বলেন ।

আবছারের কথা অনুযায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের ওই নম্বরে ফোন করলে ইউএনও পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি মোবাইল নম্বরের (০১৮৭২-৪২১১২৭) নগদ একাউন্টে অনুদান পেতে হলে এক ঘণ্টার মধ্যে ৪৩ হাজার ৬৪০ টাকা পাঠাতে বলেন।

পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের সেই ভুয়া ইউএনওর নগদ নম্বরে (০১৮৮৩৩৩৮৮৪) দুই দফায় ৪৩ হাজার ৬৪০ টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর পরদিন মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি ইউপি সদস্য আবু আবছারকে জানালে তিনি উল্টো তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের বলেন, ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ইউপি সদস্য আবু আবছার আমার ৪৩ হাজার ৬৪০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি ইতিপূর্বে এলাকার আরও অনেকের সঙ্গে নানাভাবে প্রতারণা করেছেন। আমি তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য আবু আবছার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং বানোয়াট। ইউএনও পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি আমাকে মুঠোফোনে মুক্তিযোদ্ধাদের মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, ইউএনও পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা আছে কিনা জানতে চাইলে আমি প্রতিবেশী আবদুল কাদেরের কথা বলি। পরে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে আমি বাইরে থাকায় আমার স্ত্রীকে তার ঘরে পাঠিয়ে কথা বলতে বলেছিলাম। পরবর্তীতে শুনি তিনি ওই নাম্বারে কথা বলে অন্য একটি নম্বরে টাকা পাঠিয়েছেন। আমি বিষয়টি শুনার সঙ্গে সঙ্গেটাকা আত্মসাতের বিষয়ে নিজেই থানায় অভিযোগ দায়ের করি। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: ‘দাপট’—নিজ পরিবারের ৭ জনের নামে ‘ভাতা’ ভাগিয়ে নেন ইউপি সদস্য মিনু

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মজিদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে দেখা গেছে ইউএনও পরিচয় দেওয়া ফোন নম্বরের মালিক শাহিন নামে এক ব্যক্তি। তার বাড়ি চাঁদপুর সদর থানার নারায়ণপুর গ্রামে। আর যে নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে সেটি সেলিনা আক্তার নামে এক মহিলার। যার বাড়ি নোয়াখালী সদর থানার নোয়ান্নাই ইউনিয়নের আতুরীর বাড়ি এলাকায়। এ বিষয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতেখার ইউনুস আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ভুক্তভোগী ওই মুক্তিযোদ্ধা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনা সঠিক হলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতিন/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm