‘ফিল্মি স্টাইলে’—দলবেঁধে অস্ত্রের মহড়া দিনদুপুরেই

বাঁশখালীতে ফিল্মি স্টাইলে দিনদুপুরে দলবেঁধে চলেছে অস্ত্রের মহড়া। সরল ইউনিয়নের সরল গ্রামে ওয়াকফ জমি দখল নিতে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দফায় দফায় মহড়া দিচ্ছে একটি গ্রুপ। এ নিয়ে গত ১৫ দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অস্ত্রের মহড়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এদিকে গত সোমবার (১৬ আগস্ট) বিকালেও সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়েছে। এ নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শঙ্কায় আছেন এলাকাবাসী। তবে থানা পুলিশ বলছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৪৩ সালে নিযুক্ত ৩ জন মোতোয়াল্লী জীবিত থাকা অবস্থায় ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তিদের নতুন মোতোয়াল্লী নিয়োগ দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘অস্ত্র উঁচিয়ে’ ১০ বছর বহদ্দারহাট কাঁপাচ্ছেন ‘ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী’ জাবেদ

জানা গেছে, নতুন নিয়োগ পাওয়া মোতোয়াল্লীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। হাইকোর্ট ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্ত মোতোয়াল্লী ও তাঁর লোকজন এসব মানতে নারাজ। ফলে প্রশাসনের কাছে দুইপক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় জমি দখলের চেষ্টা চলছে ।

অভিযোগ উঠেছে, ওয়াকফ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই না করে এবং প্রকৃত ওয়ারিশদের মতামত না নিয়ে ৭৮ বছর ধরে চলমান শান্তিপূর্ণ ওয়াকফ সম্পত্তিতে নতুন মোতোয়াল্লী নিয়োগ দেওয়ায় এ উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াকফ প্রশাসনের চট্টগ্রামের পরিদর্শক ফরিদ আহমদ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ওই ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে আগের পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন প্রতিবেদন দিয়েছেন। এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন আগের মোতোয়াল্লী মৌলভী আব্দুল ওয়াদুদ। হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। হাইকোর্টের রায়ই হবে প্রকৃত মীমাংসা। এখানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে লাভ হবে না। উত্তেজনার বিষয়টি শুনেছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৩ সালে পিএস খতিয়ান মূলে হোসেন শাহ ফকিরের মসজিদ মাদরাসা ও দরগাহ ওয়াকফ এস্টেটের ১০ দশমিক ৪৯ একর সম্পত্তির পক্ষে মোতোয়াল্লী নিয়োগ হন হাজী রাশেদ আলী, ইয়াকুব আলী এবং ছাবের আহমদ। হাজী রাশেদ আলী মারা গেলে বিএস খতিয়ান মূলে মোতোয়াল্লী নিযুক্ত হন মৌলভী আব্দুল ওয়াদুদ, মৌলভী আব্দুল কুদ্দুস ও মৌলভী আব্দুর ছবুর। তিনজনই এখনও জীবিত আছেন। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে ৭৮ বছর ধরে ওয়াকফ সম্পত্তি পরিচালনা করে আসছিলেন।

এক নম্বর মোতোয়াল্লী মৌলভী আব্দুল ওয়াদুদ অভিযোগ করে বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তির যাবতীয় বিষয় গোপন রেখে সম্পত্তির ওয়ারিশ নয় এমন ৮ জন ব্যক্তিকে দিয়ে গোপনে ওয়াকফ প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়। হোসেন আলী ফকির মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আব্দুল মালেক নতুন মোতোয়াল্লী করিয়ে নেন এমরানুল হককে। এমরানুল হক খতিয়ান মূলে নিযুক্ত জীবিত মোতোয়াল্লী মৌলভী আব্দুর ছবুরের ছেলে।

তিনি বলেন, এর আগে মৌলভী আব্দুর ছবুর নিজেই উক্ত সম্পত্তি দখলের জন্য নানা আইনি লড়াই করে ব্যর্থ হন। এখন ছেলেকে মোতোয়াল্লী নিয়োগ করে ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। নাশকতাসহ একাধিক মামলার আসামি মাদরাসার নির্বাহী পরিচালক মাওলানা আব্দুল মালেক সম্পত্তি দখলের জন্য ওয়ারিশদের মধ্যে চক্রান্ত সৃষ্টি করছেন। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপন থেকে এলাকায় ফিরে এলাকায় নিষ্কন্টক ওয়াকফ সম্পত্তি দখলে ত্রাস সৃষ্টি করছেন।

আরও পড়ুন: ত্রিপুরাদের চোখেমুখে ‘আতঙ্কের ছাপ’—ফিল্মি স্টাইলে ৭০ পরিবারকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করতে চায় আবুল খায়ের গ্রুপ

মোতোয়াল্লী মৌলভী আব্দুল ওয়াদুদ আরও বলেন, গোপনীয়ভাবে নতুন মোতোয়াল্লী নিয়োগ করায় গত ১৩ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করেছি। হাইকোর্ট স্থিতাবস্থা দেওয়ার পর থেকে এমরানুল হক, মাওলানা আব্দুল মালেকসহ তাঁদের সশস্ত্র বাহিনী ওয়াকফ সম্পত্তি (১০ দশমিক ৪৯ একর) দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভীতি ছড়াতে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র, কিরিচ ও লাঠি নিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে প্রতিদিন। ইতোমধ্যে অস্ত্র মহড়ার ভিডিও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার নির্বাহী পরিচালক মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, আমি ওয়াকফ সম্পত্তির ওয়ারিশ না হলেও নতুন মোতোয়াল্লী নিয়োগে আবেদন করতে পারবো না এমন নিয়ম ওয়াকফ প্রশাসনের ধারায় নেই। আর আমার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় বর্তমানে জামিনে আছি।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত মোতোয়াল্লী এমরানুল হক বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তির তছরুপ ঠেকাতে আমাকে ওয়াকফ প্রশাসন মোতোয়াল্লী নিয়োগ করেছেন। আমি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছি না।

ঘটনার বিষয়ে বাঁশখালী থানার এস আই আহসান হাবিব বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তির বিরোধ ও নতুন মোতোয়াল্লী নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষেণ করছি।

উজ্জ্বল/আরবি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm